August 1, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, July 8th, 2021, 8:29 pm

টাঙ্গাইলে কাজ শেষ না হতেই প্রায় ৩শ কোটি টাকার মহাসড়কে ধস

ছবি : সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইল: নিম্নমানের সামগ্রী ও দায়সারাভাবে কাজ করায় নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে যাচ্ছে ২৯৮ কোটি টাকার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে ধনবাড়ী পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়ক। এতে করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় জনসাধারণ। তারা বলছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দায়সারা কাজ করার ফলেই মহাসড়কের দুইপাশে ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, এলেঙ্গা থেকে ধনবাড়ী রোড পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুটের স্থলে মহাসড়কে উন্নীত করে ৩০ ফুট করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২৯৮ কোটি টাকা। আর এ মহাসড়কের কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ মহাসড়কটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য দুই পাশে তিন ফুট করে মাটি দিয়ে সোল্ডার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মানসম্পন্ন সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এলেঙ্গা থেকে মধুপুর পর্যন্ত এ মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। কিছুকিছু স্থানে নতুন সেতু করার কারণে সেখানে রাস্তার কার্পেটিং বাদ রাখা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্থানেই রাস্তা নির্মাণ করার পরপরই ধসে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও ধসে পড়া স্থানে পাথর ও বালুর মিশ্রণ ফেলে নামে মাত্র সংস্কার করা হচ্ছে। তবে এ সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেন। কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবুল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তাদের এলাকায় কিছুদিন আগে রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই বাসস্ট্যান্ড এলাকার সেতুর কাছে বিশাল গর্ত হয়ে দেবে গেছে। এরপর দেবে যাওয়া অংশে পাথর ও বালুর মিশ্রণ করে সেই গর্ত ভরাট করা হয়েছে। তিনি জানান, এ সড়কের (গর্তের স্থান) দুই পাশেই খাল রয়েছে। সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে রাস্তা নির্মাণ করলে হয়তো রাস্তার ক্ষতি হতো না। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে মধুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশে নেই কোনো সোল্ডার। এতে করে চরম হুমকির মুখে পড়েছে সড়কটি। এরইমধ্যে সড়কটির প্রায় ৩০/৪০টি স্থানে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েকটি স্থানও হুমকির মুখে রয়েছে। ওয়াহিদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজিব খান জানান, রাস্তার কাজ প্রায় শেষ। আরেকটি লেয়ার দিলেই পুরোপুরি রাস্তার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে রাস্তার দুই পাশে সোল্ডার করার বিষয়ে তিনি বলেন, মাটি না পাওয়ায় সোল্ডার করা সম্ভব হয়নি। রাস্তার কাজ পুরোপুরি শেষ করার পর মাটির ব্যবস্থা করে সোল্ডার করা হবে। প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার হাফিজ উদ্দিন জানান, অ্যাটলাস কোম্পানির দুবাই থেকে আনা বিটুমিন দিয়ে এ মহাসড়কের কাজ করা হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে তিন ফুট করে যে সোল্ডার করার কথা রয়েছে, তা কোথাও মাটি না পাওয়ার কারণে করা যাচ্ছে না। এ কারণে সড়কটির দুই পাশে ধসে যাচ্ছে। তবে রাস্তার কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর মাটির ব্যবস্থা করে সোল্ডার করা হবে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে। এ সড়কের কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ঘাটাইল উপজেলার সেনানিবাস মোড় পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাসিম জানান, সড়কটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুইপাশে সোল্ডার না করার কারণে সড়কটির যে যে স্থানে ধসে গেছে, সে স্থানগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কার করে দেবে। এ ছাড়া সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী তিনবছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এলেঙ্গা থেকে বাংড়া পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী আশরাফুল ইসলাম জানান, সড়কটির কাজ এখনো চলমান। আরেকটি লেয়ার দিলেই সড়কটির কাজ সম্পন্ন হবে। আর হস্তান্তরের আগেই যাতে সড়কটির দুই পাশে সোল্ডার করা হয়, এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার বলা হচ্ছে।