June 17, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, March 19th, 2023, 9:45 pm

অগ্নি-দুর্ঘটনার শঙ্কায় দেশের শিল্প-কারখানার মালিকরা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের শিল্প-কারখানায় অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। তাতে বাড়ছে প্রাণহানি ও সম্পদহানির পরিমাণ। অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ে শঙ্কিত শিল্প-কারখানার মালিকরা। কেবল তৈরি পোশাক কারখানায় বিগত ২০২২ সালে ৩৮৪টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী কারখানায় ২৪১ ও স্থানীয় কারখানায় ১৪৩ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তাছাড়া ২০২১ সালে দেশে ২৭৫টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। আর রপ্তানিমুখী কারখানায় ১৮০ ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাক কারখানায় ৯৫ বার আগুন লাগে। ওসব ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তার আগের বছর ২০২০ সালে তৈরি পোশাক কারখানায় ২৭৩টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী কারখানায় ১৭৭ ও স্থানীয় কারখানায় ৯৬ বার অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে আর তাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। গত তিন বছরে তৈরি পোশাক ছাড়া অন্যান্য কারখানায়ও ধারাবাহিকভাবে অগ্নিদুর্ঘটনা বেড়েছে। ২০২০ সালে শিল্প-কারখানায় ৩৮৩টি অগ্নিকা-ের ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৪২৯টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। তাতে ক্ষয়ক্ষতি হয় ২২ কোটি ৯৮ লাখ ১২ হাজার টাকার। ২০২১ সালে ৩৮২টি অগ্নিদুর্ঘটনায় ২০ কোটি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া গত তিন বছরে কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনাও বেড়েছে। বয়লার বিস্ফোরণে ২০২২ সালে ২৬টি ঘটনায় প্রায় ৬৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। আর ২০২০ সালে ২০টি ঘটনায় প্রায় ৫৭ লাখ ও ২০২১ সালে নয়টি ঘটনায় প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ৭ মার্চ রাজধানীর পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে এক বহুতল ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ২৩ জন এবং শতাধিক আহত হন। গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণের ধারণা করা হচ্ছে। তার দুদিন আগে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় একটি ভবনে বিস্ফোরণে ৫ জন নিহত আর অন্তত ৩০ জন আহত হয়। ৪ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকু-ে একটি অক্সিজেন প্লান্টে বিস্ফোরণে অন্তত ৭ জন নিহত হয়। তার পর পরই তুলার গুদামে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আর ১৮ মার্চ নিতাইগঞ্জে একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ক্রমাগত বিস্ফোরণ ও অগ্নিদুর্ঘটনায় শিল্প মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সূত্র জানায়, অগ্নিদুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) কারখানা মালিকদের এয়ারকন্ডিশনার ও গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক কয়েকটি স্থানে সংঘটিত বিস্ফোরণে বেশকিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভবনে ব্যবহৃত এয়ারকন্ডিশনার ও গ্যাস লাইনে এ বিস্ফোরণ ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু পোশাক শিল্প-কারখানাগুলোয় এয়ারকন্ডিশনার ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ উদ্বিগ্ন। পোশাক শিল্প-কারখানায় অধিকসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনায় হতাহতের ঝুঁকি রয়েছে। শীত মৌসুম চলে যাওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এসির ব্যবহারও বাড়ছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক না হলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ এবং হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া বয়লার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, কারখানায় ব্যবহৃত বয়লার ও গ্যাসের লাইন থেকেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে এ ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে। তাই এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে কারখানা ও কর্মস্থলে এসি, বয়লার ও গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। নিয়মিত অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করানো, গ্যাসের চাপ সঠিক মাত্রায় রাখার ব্যবস্থা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ বয়লার পরিবর্তন করা, কারখানায় ব্যবহূত সব ধরনের বয়লার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অপারেটর দিয়ে পরিচালনাসহ ৬টি নির্দেশনাও দেয়া হয়। এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম জানান, শুধু পোশাক কারখানা নয়, সব জায়গাতেই অগ্নিদুর্ঘটনার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কারখানায় লোকজনকে আরো সতর্ক করতে বিজিএমইএ একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনেকে কাজ শেষে যেন এসি বন্ধ করে যায়, তা বলা হয়েছে। কারণ চালু রেখে চলে গেলে গরমে বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।