December 1, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, July 11th, 2021, 7:50 pm

অনিয়মের খবর প্রকাশে মামলা, গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকের জামিন

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক :

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করেন আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক ডা. নাদিরুল আজিজ (চপল)। গত শনিবার রাতে এ মামলায় তানভীর হাসান তানুকে গ্রেপ্তার করে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ। পরে রোববার (১১ জুলাই) তার জামিন দেন আদালত। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিক তানুকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ডালিম কুমার রায় সাংবাদিক তানভীর হাসান তানুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ঠাকুরগাঁও সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। সাংবাদিক তানুর আইনজীবী আরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সাংবাদিক তানভির হাসান তানু শহরের হাজীপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দৈনিক ইত্তেফাক ও জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি। এছাড়াও তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৯ জুলাই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)(ক) ২৫(১)(খ) ২৯(১)/৩১(১)/৩৫(১) ধারায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তানভির হাসান তানু, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি রহিম শুভ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আবদুল লতিফ লিটুকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়। সংবাদটি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, জনরোষ সৃষ্টিকারী ও মানহানিকর’ দাবি করে ৯ জুলাই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক তানভির হাসান তানু, রহিম শুভ ও আবদুল লতিফ লিটু এবং অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এদিকে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে মামলা হলেও হাসপাতালে খাবার সরবরাহে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে মামলার এজাহার থেকেই। মামলার এজাহারে বাদী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক উল্লেখ করেছেন, গত জুন মাসে ২/১ দিন খাবার সরবরাহে সামান্য ব্যত্যয় ঘটলেও অন্যান্য সময় সরকারি বরাদ্দ মোতাবেক যথাযথভাবে রোগীদের খাবার প্রদান করা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়কের দাবিÑ সংবাদ প্রকাশের পরই তিনি হাসপাতালে খাবার সরবরাহে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, হাসপাতালের পাচক (বাবুর্চি) ও রোগীদের খাবার পরিবেশনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য জানতে পেরেছেন। অর্থাৎ সংবাদ প্রকাশের পরই তিনি খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তার দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লিখিত হাসপাতালে ‘দু-একদিন খাবার সরবরাহে ব্যত্যয়’-এর তথ্য জানতে পেরেছেন। অথচ ‘খাবার সরবরাহে ব্যত্যয়’-এর বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। এদিকে, এজাহারে ‘দু-একদিন খাবার সরবরাহে ব্যত্যয়’ ঘটার তথ্য অকপটে স্বীকার করা হলেও তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘ভাবমূর্তি বিনষ্ট’ এবং ‘সুনাম ক্ষুণœ’ হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দাবিÑখাবার পরিবেশনে অনিয়মের ওই সংবাদে ‘জনরোষ সৃষ্টিকারী’ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের দু’জন রোগী, একজন স্বজনের নাম উল্লেখসহ ‘নিম্নমানের খাবার পরিবেশন’-এর অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া সংবাদে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়। এদিকে, সাংবাদিকে তানভীর হাসান তানু থানা হাজতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেজন্য সেখান থেকে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। গত শনিবার রাত ১টার দিকে তানুর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে পাঠান সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম। তানুর স্বজনরা জানান, করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এ রোগ থেকে সুস্থ হন তানু। তবে এখনো তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছেন। তাকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক তানু হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। বিষয়টি দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে জানালে আমি তাকে হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে, তানুকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মুক্তি দাবিতে এবং মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার চেয়ে জেলা প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সামবেশ করেন সাংবাদিকরা। তারা তানুর মুক্তি ও সাংবাদিকদের নামে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর প্রতিবাদলিপিসহ বিভিন্নভাবে অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পন্থায় না গিয়ে সরাসরি সাংবাদিকের নামে মামলা করে তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী বলেন, একটি সত্য সংবাদ করার পরেই এভাবে মামলা দিয়ে সাংবাদিককে হয়রানি করার মানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। মামলা দায়ের ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই আমি। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে এবং গ্রেপ্তার সাংবাদিককে মুক্তি দেয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি নেয়া হবে।