July 13, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, December 26th, 2023, 8:11 pm

অস্ট্রেলিয়ার লড়াই, পাকিস্তানের ক্যাচ ছাড়ার হতাশা

অনলাইন ডেস্ক :

দিনের শুরু আর শেষ পাকিস্তানের মিলে গেল হতাশার একই বিন্দুতে। দিনের শুরুতে স্লিপে ডেভিড ওয়ার্নারের সহজ ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন আব্দুল্লাহ শফিক। দিনের শেষ ওভারে ট্রাভিস হেড জীবন পান শান মাসুদের হাতে। সম্ভাবনা জাগিয়েও তাই দিনটি নিজেদের করে নিতে পারল না পাকিস্তান। বৃষ্টিবিঘিœত দিনে চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশন ও উইকেটে লড়াই করে একটু এগিয়ে থাকল অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনে ৬৬ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেটে ১৮৭। অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যানই সহজে উইকেট হারাননি। পাকিস্তানের বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ সামলে লড়াই করেন সবাই। তবে পাকিস্তানও ছেড়ে কথা বলেনি।

অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যান দ্রুত রান তুলতে পারেননি। ফিফটিতে যেতে পারেননি এখনও পর্যন্ত কেউ। গত কয়েক বছরে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের উইকেটে পেসারদের সহায়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ম্যাচেও উইকেটে ৬-৭ মিলিমিটার ঘাস রেখে দেওয়া হয়। আগের দুই দিনের বৃষ্টির পর এ দিনও সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। উইকেট ও কন্ডিশনের দাবি মেনে চার পেসার নিয়ে একাদশ সাজায় পাকিস্তান। টস জিতে বোলিংও বেছে নেয় তারা। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স জানান, টস জিতলে বোলিং নিতেন তিনিও। দুই বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মির হামজা শুরু থেকেই পরীক্ষা নেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারদের। দারুণ একটি সুযোগও মেলে।

আফ্রিদির অফ স্টাম্প ঘেষা দুর্দান্ত সুইং ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন ওয়ার্নার। কিন্তু সহজতম সেই ক্যাচ নিতে পারেননি শফিক। ওয়ার্নার রক্ষা পান ২ রানে। উইকেট থেকে যথেষ্ট মুভমেন্ট আদায় করে নেন পাকিস্তানের সব পেসারই। নতুন বলের দুই পেসারের পর দলে ফেরা হাসান আলি ও আমের জামালও ভালো বোলিং করেন। কিন্তু যথেষ্ট ধারাবাহিক তারা হতে পারেননি। ওয়ার্নার ও উসমান খাওয়াজাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে ঠিকই ভালো জুটি গড়ে তোলেন। আলগা বল পেলেই কাজে লাগান দুজন। ৯০ রানের জুটি ভাঙে লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে। পেস মঞ্চে শিকারের দেখা পান স্পিনার সালমান আঘা। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে তার ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে ড্রাইভ করার চেষ্টায় স্লিপে ধরা পড়েন ওয়ার্নার। আগের টেস্টে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটানো ব্যাটসম্যান এবার ৩৮ রান করেন ৮৩ বলে।

লাঞ্চের পরপর আরেকটি সাফল্য পায় পাকিস্তান। হাসান আলির বলে প্রিয় লেট কাট খেলতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন খাওয়াজা। ১০১ বল খেলে ৪২ রানে ফেরেন তিনি। এর পরের সময়টায় দিনের সবচেয়ে কার্যকর বোলিং করে পাকিস্তান। হাসান, হামজা, জামালরা সুইং বোলিংয়ে বড় পরীক্ষা নেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথের। বিশেষ করে সুইং বোলিংয়ের দারুণ প্রদর্শনী মেলে ধরেন হামজা। লাবুশেন ও স্মিথের ব্যাট একরকম থমকেই থাকে। প্রথম বাউন্ডারির আগে স্মিথের রান ছিল ৪০ বলে ৫।

প্রথম চারের আগে লাবুশেন ৭৪ বলে করেন ১৭। তবে অস্থির না হয়ে লড়াই চালিয়ে যান তারা। শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি। ইনিংস বড় করতে পারেননি স্মিথ। আফ্রিদির বলে একবার আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। একটু পরই জামালের অফ স্টাম্প ঘেঁষা আউট সুইঙ্গারে বিদায় নেন তিনি ২৬ রানে। এবার আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। লাবুশেনের প্রতিরোধ অবশ্য ভাঙতে পারেনি পাকিস্তান। দিন শেষ করেন তিনি ১২০ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে। তবে আরেক প্রান্তে হেডকে ফেরাতে পারতেন তারা, যদি ক্যাচটি নিতে পারতেন অধিনায়ক শান মাসুদ। হেড রক্ষা পাওয়াতেই দিনটি স্বস্তিতে শেষ করতে পারে অস্ট্রেলিয়া, দারুণ বোলিংয়ের পরও তাই একটু পিছিয়ে পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৬৬ ওভারে ১৮৭/৩ (ওয়ার্নার ৩৮, খাওয়াজা ৪২, লাবুশেন ৪৪*, স্মিথ ২৬, হেড ৯*; আফ্রিদি ২০-৫-৬৩-০, হামজা ১৫-৪-২৭-০, হাসান ১৪-৪-২৮-১, জামাল ১৪-১-৪৭-১, সালমান ৩-০-৫-১)