October 6, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, August 13th, 2022, 8:04 pm

আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক সাকিব

অনলাইন ডেস্ক :

বিতর্কের আঁধার থেকে দ্রুতই আবার দায়িত্বের আলোয় সাকিব আল হাসান। অনলাইন বেটিং সাইটের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার পর তার কাঁধেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের ভার তুলে দিল বিসিবি। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই অলরাউন্ডার নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশকে। এই মাসের শেষ দিকে এশিয়া কাপ দিয়ে শুরু হবে সাকিবের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের নতুন অধ্যায়। পরে অক্টোবরের শুরুতে নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শনিবার বিকেলে সাকিবের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, বোর্ড পরিচালকদের কয়েকজন ও নির্বাচক কমিটি। গুলশানে বিসিবি সভাপতির বাসভবনে এই সভা শেষে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস সংবাদ সম্মেলনে জানান অধিনায়ক হিসেবে সাকিবকে বেছে নেওয়ার কথা। “সামনে আমাদের এশিয়া কাপ আছে। এরপর নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ, পরে বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়াতে। আমরা বোর্ডে আগেই একটি সভা করেছিলাম, সেই সভার একটি সিদ্ধান্ত ছিল (অধিনায়কত্ব নিয়ে)। আবার আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। বোর্ড সভাপতি ছিলেন, নির্বাচকরা ছিলেন। আমরা এই কয়েকটি সিরিজের জন্য সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করছি।” বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্ব আগে থেকেই ছিল সাকিবের। এবার টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে ফেরার পর ফিরে এলো ২০১৯ সালের বাস্তবতা। সেবার জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আগে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। সাকিবের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মাহমুদউল্লাহ। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের চরম ব্যর্থতার পর নেতৃত্বে রেখে দেওয়া হয় তাকেই। তবে গত কিছুদিনে তার নিজের ফর্মহীনতা ও দলের বাজে পারফরম্যান্সে সমালোচনা হতে থাকে তীব্র। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরে মাহমুদউল্লাহকে দলের বাইরে রেখে অধিনায়ক করা হয় নুরুল হাসান সোহানকে। বিসিবি তখন বলেছিল, এই সফরে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। জিম্বাবুয়ে সফরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর আঙুলে চোট পেয়ে ছিটকে যান সোহান। ওয়ানডে দলে থাকা মাহমুদউল্লাহকে তখন টি-টোয়েন্টি দলে আনা হয় শেষ ম্যাচের জন্য। তবে সেই ম্যাচের নেতৃত্ব পান মোসাদ্দেক হোসেন। মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ তখনই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অনুমিত পথেই এগোল সবকিছু। যদিও গোল বেধেছিল বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সাকিবের চুক্তি নিয়ে। বিসিবি সভাপতি সাফ জানিয়ে দেন, বেটিং সাইট বেটউইনারের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল না করলে সাকিবকে নেতৃত্বের বিবেচনায় রাখা তো বহুদূর, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গেই তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এই হুঁশিয়ারির পর দ্রুতই চুক্তি বাতিলের কথা বিসিবিকে লিখিতভাবে জানান দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার বলে বিবেচিত এই অলরাউন্ডার। চুক্তি বাতিল করার পরও তার সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় ছিলেন বিসিবি সভাপতি। বিসিবিকে না জানিয়ে এই চুক্তি করা ও এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান বোর্ড প্রধান। সাকিব শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব পাওয়ায় তার ব্যাখ্যায় বিসিবি সন্তুষ্ট বলেই ধরে নেওয়া যায়। সাকিবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টিতে ২১টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে জয় ৭টিতে, পরাজয় ১৪টি।