January 31, 2023

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, December 15th, 2022, 9:49 pm

আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর। পালটে যাচ্ছে বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো। বর্তমানে দেশের ৭টি বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ৩৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার কাজ চলছে। আর ওসব প্রকল্পের কাজের সমাপ্তি ঘটবে আগামী বছরের শেষ নাগাদ। আগামী বছরই উদ্বোধন হবে এভিয়েশন খাতের মেগা প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ। এখন অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আর টার্মিনাল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিয়োগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ওই পপ্রকল্পটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু এখন সময়ের ব্যাপার। তাতে আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শাহজালালের যাত্রী আর কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের চাহিদা পূরণ হবে। বিগত ২০১৯ সালে ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) বাস্তবায়ন হলে শাহজালালের যাত্রী হ্যান্ডেলিং ক্যাপাসিটি দাঁড়াবে ১০ মিলিয়ন থেকে ২২ মিলিয়ন। আর কার্গো হ্যান্ডেলিং ২ লাখ ২০ হাজার টন থেকে ৭ লাখ টনে উন্নীত হবে। তাছাড়া টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট ও সিকিউরিটি ইকুইপমেন্টসহ নতুন প্যাসেঞ্জার বিল্ডিং (থার্ড টার্মিনাল-২ লাখ ৭২ হাজার বর্গমিটার) নতুন কার্গো কমপ্লেক্স ৬৩ হাজার বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট টেক্সিওয়ে ১৯ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, অ্যাপ্রোন ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার ও কানেক্টিং টেক্সিওয়ে ৬৬ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, টানেলসহ বহুতল কারপার্কি ৬২ হাজার বর্গমিটার, যন্ত্রপাতিসহ ফায়ার ফাইটিং স্টেশন ৪ হাজার বর্গমিটার, এন্ট্রি ও এক্সিট র‌্যাম্পসহ রোড নেটওয়ার্ক, ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম, সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট, ইনটেক পাওয়ার প্ল্যান্ট, কার্গো ইকুইপমেন্ট ক্রয়, এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সুবিধা তৈরি হবে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। শাহজালালের বর্তমান ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩ হাজার ৫৪৮ বর্গমিটার এক্সপোট কার্গো অ্যাপ্রোন নির্মাণ কাজ চলমান। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ। আর তা বাস্তবায়নের পর অ্যাপ্রোনে অতিরিক্ত ৪টি সুপরিসর কার্গো এয়ারক্রাফট পার্ক করতে পারবে। তাছাড়া ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পে ২৩ হাজার ৫৮৯ বর্গমিটার জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার নির্মাণ, ৬৫ হাজার ৬৮ বর্গমিটারের হ্যাঙ্গার অ্যাপ্রোন, ২৯ হাজার ৯৮৮ বর্গমিটারের নতুন পার্কিং এরিয়া ও ৫ তলাবিশিষ্ট ৫ হাজার বর্গমিটারের ফ্লোরস্পেসের ভবন তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তাছাড়া ঢাকার কুড়িলে ৫০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া হ্যালিপোর্ট প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হেলিকপ্টারের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ সুবিধা নিশ্চিত করা। ওই প্রকল্পের কাজও চলমান।
সূত্র জানায়, দেশের আরেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহ আমানতের বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শেষ হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে ফুল লোডেড বোয়িং ৭৭৭ বিমান রানওয়েতে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের শক্তি (পিসিএন) ৬৬ থেকে ৯১-তে উন্নীত করা হচ্ছে। তাছাড়া ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দরের বিস্তারিত ড্রয়িং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ড্রয়িং-ডিজাইন, ব্যয় প্রাক্কলন ও মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুতের কাজ চলছে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পে ১৩৬ কোটি টাকার কাজ চলমান। সেজন্য মাদারীপুর ও শরীয়তপুর ওই দুটি স্থানকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় ৪৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি ৪১ পিসিএন থেকে ৯০ পিসিএনে উন্নীত করা হচ্ছে। কাজের ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে ওই বিমানবন্দরে পুরো দমে বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারবে। ইতোমধ্যে ওই রুটে লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট চালু হয়েছে। তাছাড়া ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটার প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ৬ হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ারসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির মাত্র ১৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ধীরগতির কারণ সন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে (প্রথম পর্যায়-তৃতীয় সংশোধনী) বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট দৈর্ঘ্যকে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত, সোল্ডারসহ ১৫০ ফুট প্রস্থকে ২০০ ফুটে উন্নীতকরাসহ রানওয়ে লাইটিং ব্যবস্থার উন্নতি করা হচ্ছে। আর ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার থেকে ৭৫০০ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। রানওয়ের চওড়া ১শ থেকে ১৫০ ফুট করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তার আওতায় ১০ হাজার ৯১৩ বর্গমিটার টার্মিনাল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ঝিনুক আকৃতির ওই ভবনটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। তাতে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি শুরু হয়। তার আওতায় রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে ১০ হাজার ৫০০ ফুটে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই বিমানবন্দরে পূর্ণ লোডে সুপরিসর বিমান চলাচল করতে পারবে। তাতে স্থানীয় যাত্রীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ট্যুরিস্ট মুভমেন্ট বাড়বে। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। তাছাড়া ১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কানেকটিং টেক্সিওয়ে ও প্যারালাল টেক্সিওয়ে নির্মাণ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আর ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ। সেটি বাস্তবায়ন হলে বিল্ডিংয়ের ক্যাপাসিটি ৩১০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭০ জনে উন্নীত হবে। তাছাড়া ওই বিমানবন্দরের জন্য একটি নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন, অটোমেশনসহ কার্গো ভবন, অ্যাপ্রোন, টেক্সিওয়ে, কন্ট্রোল টাওয়ারসহ অপারেশনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। ওই বিমানবন্দরকে রিজিওনাল বিমানবন্দর বানানোর জন্য ৮৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল ভবনে যাত্রী ক্যাপাসিটি ৩০০ জন থেকে বাড়িয়ে ৬০০ জনে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ ৯৯ শতাংশ শেষ। পাশাপাশি ৫৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের সারফেসে অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারলেকরণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে ৩ বিমানবন্দরের উড্ডয়ন-অবতরণ সহজ হবে। ওই প্রকল্পে রানওয়ের পিসিএন ১৭ থেকে ৫০-এ উন্নীত করা হচ্ছে। ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পে টার্মিনাল ভবন, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণসহ যোগাযোগ ও নিরাপত্তা যন্ত্রাবলি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাতে বর্তমান টার্মিনালের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২৬০ থেকে ৮৫০-এ উন্নীত হবে। পাশাপাশি বর্তমান রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুটে উন্নীত করা হবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ববিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান জানান, আগামী দেশের বিমানবন্দর আধুনিকায়নের সব প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হবে। তাতে পালটে যাবে দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত চেহারা। প্রতিটি বিমানবন্দর হবে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন। করোনার মধ্যেও বেবিচকের প্রকৌশলীরা ওসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করেছেন। প্রতিটি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। ইকুইপমেন্ট ও নিরাপত্তা সামগ্রীর মান ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড করা হয়েছে।