May 25, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, April 10th, 2023, 9:13 pm

আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো পায়রা বন্দর, চলতি মাসে জাহাজ এসে ভিড়বে টার্মিনালে

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী (কলাপাড়া) :

পায়রা বন্দর এখন কর্মমুখর। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদী পাড়ে চলছে উন্নয়নের মহা কর্মযজ্ঞ। আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা। সম্পন্ন হয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ড্রেজিং’র কাজ। চলছে বন্দরের ফাস্ট টার্মিনাল স্থাপনার নির্মান কাজ। চলতি মাসে বিদেশি কয়লাবাহী জাহাজ পায়রা বন্দরের টার্মিনালে এসে ভিড়বার কথা রয়েছে। এতে বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়বে আট থেকে দশ গুণ বেশি। আর বন্দরের এই সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম জেটি প্রকল্পের সঙ্গে ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের একটি সংযোগ সড়ক রয়েছে। সেই সঙ্গে আন্ধারমানিক নদীর উপর ১ দশমিক ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে। জেটির সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলছে এসব নির্মাণকাজ। ৬৫০ মিটারের মূল জেটি এবং ৩২৫ বর্গমিটার বেকআপ ইয়ার্ডের কাজ শেষ হলে ২০০ মিটার দীর্ঘ ৩টি মাদারভ্যাসেল জাহাজ নিয়মিত এখানে কনটেইনার খালাস করতে পারবে। তবে চ্যানেলের ক্যাপিটাল ড্রেজিং’র কাজ শেষ করেছে ‘জানদেনুল’ নামের বেলজিয়াম ভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে রামনাবাদ চ্যানেলটি ১০.৫ মিটার গভীরতায় উন্নীত হয়েছে। এর ফলে ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩২ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট প্যনাম্যাক্স আকৃতির বড় জাহাজ পন্য নিয়ে সরসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর পায়রা বন্দর যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৯ থেকে পায়রা বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম চালু হয়। গত এক বছরে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে আয় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্কীম পরিচালক কমডোর রাজীব ত্রিপুরা বলেন, দীর্ঘ ৭৫ কিঃ মিঃ চ্যানেল এর ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাস্তবায়নের আগে দীর্ঘ কয়েক বছর স্ট্যাডি ও সমীক্ষা করা হয়েছে। এই স্ট্যাডি হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত থেকে চুড়ান্তভাবে আর্ন্তজাতিক ডিজাইন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জেডিএন জান মোয়েন বলেন, বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা ক্যাপিটাল ও মেইটেনেন্স ড্রেজিং এর কাজ সরাসরিভাবে যুক্ত হতে পারায় ‘জান দে নুল’এর জন্য অত্যান্ত গর্ভের বিষয়। এই প্রকল্পে নিজস্ব অভিজ্ঞা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একটি অন্তর্জাতিক মানের চ্যানেল সাফল্যজনকভাবে খনন কাজ শেষ করতে পেরে খুবই অনন্দিত। এই সফলতার মাধ্যমে দুই দেশের সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, পায়রা বন্দর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম স্মার্ট বন্দর। এটি প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী একটি সিদ্ধান্ত। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি আধুনিক মাষ্টার প্লানের আওতায় এই বন্দরটি ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬.৫০০ একর ভূমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। আগামীতে বন্দরে প্রথম টার্মিনালের সাথে যুক্ত হচ্ছে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল। এদের মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার টার্মিনাল-১,কন্টেইনার টার্মিনাল-২,লিকুইড বাল্ক টার্মিনাল, কোল টার্মিনাল ও এলএনজি টার্মিনাল। বন্দরের এই সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক বানিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সুচনা হবে। ইতিমধ্যে বন্দরকে ঘিরে দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব এমপি বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হবার ফলে পায়রা বন্দর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বন্দরে পরিনত হয়েছে। এই বন্দরের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
উল্লেখ্য, গভীরতা বাড়ানোর কারণে জেটিতে সরাসরি মাদার ভ্যাসেল ভিড়তে পারবে। ফলে লাগবে না লাইটার জাহাজের সাহায্য। এতে দেশের অন্য সব বন্দরের তুলনায় এখানে পণ্যপরিবহনে খরচ কমে আসবে।