December 6, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, October 4th, 2021, 5:43 pm

ইমরান খানের ঘনিষ্ঠজনদের নাম প্যান্ডোরা পেপার্সে

অনলাইন ডেস্ক :

দুর্নীতি দূর করে নতুন পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান; কিন্তু সদ্য ফাঁস হওয়া প্যান্ডোরা পেপার্সে তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঘনিষ্ঠদের নামও আসছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) বলছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোকজনই গোপনে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন অফশোর কোম্পানিতে। ফিনসেন ফাইলস, প্যারাডাইস পেপার্স, পানামা পেপার্স এবং লাক্সলিকসের ধারাবাহিকতায় এবার ৯৫ হাজার অফশোর ফার্মের ১ কোটি ২০ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়েছে, যাতে বেরিয়ে আসছে বিশ্ব নেতা, রাজনীতিবিদ এবং ধনকুবেরদের গোপন সম্পদ এবং লেনদেনের তথ্য। এর নাম দেওয়া হয়েছে প্যানডোরা পেপার্স। এসব নথি প্রথমে হাতে পায় আইসিআইজে। ১১৭টি দেশের সাড়ে ছয়শর বেশি সাংবাদিক সেসব নথি বিশ্লেষণ ও তদন্ত করে এখন ধারাবাহিকভাবে তথ্য প্রকাশ করছেন। বিশ্বজুড়ে ৩৫ জন রাষ্ট্রনেতা, ৩০০ সরকারি কর্মকর্তা, শ খানেক বিলিয়নেয়ারের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য এসেছে এসব নথিতে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্যানডোরা পেপার্সে যে পাকিস্তানিদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন, শিল্প ও উৎপাদনমন্ত্রী খোশরো বখতিয়ারের পরিবার, সেনেটর ফয়সাল ভাদা, ইমরানের দল তেহরিক ই ইনসাফের নেতা আবদুল আলিম খান, পাকিস্তান মুসলিম লিগের (কিউ) নেতা চৌধুরী মনিস এলাহী, পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা শারজিল মেমন এবং সফটওয়্যার কোম্পানি এক্সাক্ট এর সিইও শোয়াইব শেখ। পাকিস্তানের জিও নিউজ জানিয়েছে, বিভিন্ন অফশোর কোম্পানিতে যাদের বিনিয়োগের তথ্য প্যানডোরা পেপার্সে এসেছে, তাদের মধ্যে পাকিস্তানির সংখ্যা সাতশর বেশি। এর মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে কোনো অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন- এমন কোনো তথ্য এখনও মেলেনি বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক ই ইনসাফের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক আরিফ নকভীর নামও এসেছে প্যানডোরা পেপার্সে। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা চলছে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে আরিফ নকভী ছিলেন ইমরান খানের একজন গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক এবং তহবিল যোগানদাতা। বেশ কয়েকটি অফশোর কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের তথ্য বেরি এসেছে প্যানডোরা পেপার্সে। এসব নথি বলছে, পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন এবং তার পরিবারের সদস্যরা অন্তত চারটি অফশোর কোম্পানির মালিকানায় রয়েছেন। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে শওকত তারিন বলেছেন, যে অফশোর কোম্পানিগুলোর কথা প্যানডোরা পেপার্সে বলা হয়েছে, সেগুলো তার ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের জন্য গঠন করা হয়েছিল। নথিতে দেখা যাচ্ছে, ইমরান খানের সাবেক অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ওয়াকার মাসুদ খানের ছেলে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একটি অফশোর কোম্পানির অন্যতম মালিক। ওয়াকার মাসুদ খান আইসিআইজেকে বলেছেন, ওই কোম্পানির কাজ কী, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। আর তার ছেলে তার ওপর নির্ভরশীলও না। আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা লন্ডনের একটি বিলসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা হস্তান্তর করেছিলেন পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাফাত উল্লাহ শাহর স্ত্রীর নামে। এর আ কাজটিও করা হয়েছিল অফশোর কোম্পানির লেনদেনের আড়ালে। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সহযোগী জেনারেল সাফাত অবশ্য দাবি করেছেন, ওই অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।