November 28, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, October 9th, 2021, 7:16 pm

এক বছরের বিরতি শেষে ফিরল ব্যালন ডি’অর

অনলাইন ডেস্ক :

কোভিড মহামারীর ধাক্কায় এক বছরের বিরতি শেষে ফিরল ব্যালন ডি’অর। এ বছরের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটির লড়াইয়ে প্রত্যাশিতভাবেই আছেন সময়ের সেরা দুই ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তাদের পাশাপাশি বর্তমানের অন্যতম সেরা বিবেচিত নেইমারের সঙ্গে আছেন ক্লাব ও জাতীয় দলের দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো জর্জিনিয়ো এবং গোলমেশিন রবের্ত লেভানদোভস্কি। ২০২১ সালের এই পুরস্কারের জন্য ছয় ধাপে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সোয়া ১০টায় শুরু হয় তালিকা ঘোষণা। প্রতিটি ধাপে পাঁচ জন মনোনিত খেলোয়াড়দের নাম জানানো হয়। তৃতীয় ধাপে আসে সম্ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মেসির নাম। গত জুলাইয়ে ব্রাজিলকে তাদের মাঠেই হারিয়ে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মিশনে চার গোল করে ও পাঁচটি করিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে বিদায়ী মৌসুমটা তার তেমন ভালো কাটেনি। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি বরাবরের মতোই ছিলেন উজ্জ্বল। লা লিগায় সর্বোচ্চ ৩০ গোল করে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো জেতেন পিচিচি ট্রফি। আর কোপা দেল রের ফাইনালে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। এর আগে রেকর্ড ছয়বার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ী মেসির অর্জনের ঝুলিতে এবার যোগ হতে পারে সপ্তম ব্যালন ডি’অর ট্রফি। ক্লাব পিএসজির হয়ে গত মৌসুমটা বেশ হতাশায়ই শেষ হয় নেইমারের। শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকা লিলের কাছে লিগ ওয়ান শিরোপা হারায় তারা। তবে জাতীয় দলের হয়ে সময়টা ভালোই কাটে তার। কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভাঙলেও আসর জুড়ে তার পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। মেসির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সেরার খেলোয়াড়ের পুরুস্কারও জেতেন তিনি। দলীয় সাফল্য না থাকলেও ব্যক্তিগত অর্জনে বছরটা দুর্দান্ত কেটেছে রোনালদোর। ইউভেন্তুসের হয়ে ২০২০-২১ সেরি আয় সর্বোচ্চ ২৯ গোল করেন তিনি। সঙ্গে গড়েন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও সেরি আয় আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গিয়েও দারুণ কয়েকটি রেকর্ড গড়েন তিনি। পর্তুগাল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও তার আগেই আসরের সর্বোচ্চ পাঁচটি গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগের রেকর্ড গোলদাতা আলি দাইকে স্পর্শ করেন রোনালদো। পরে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে রেকর্ডটি নিজের করে নেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। অনেকটা অন্তরালে থেকেই বর্ষসেরার লড়াইয়ে উঠে এসেছেন জর্জিনিয়ো। গত বছরের শেষভাগে ভুগতে থাকা চেলসির নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। টমাস টুখেলের কোচিংয়ে পাল্টে যাওয়া দলটি প্রিমিয়ার লিগ শেষ করে শীর্ষ চারে থেকে। পরে চমক জাগিয়ে সিটিকে হারিয়ে জিতে নেয় ইউরোপ সেরার ট্রফি। জাতীয় দলের হয়েও দারুণ সাফল্য পান জর্জিনিয়ো। গত জুন-জুলাইয়ে উরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি, সেখানেও মাঝমাঠে তার নেতৃত্ব তুমুল প্রশংসিত হয়। এরপর ক্লাবে ফিরেই আরেকটি শিরোপার স্বাদ পান ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। অগাস্টের শুরুতে চেলসি জেতে উয়েফা সুপার কাপ। সম্ভাবনার দৌড়ে আছেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। জাতীয় দলের হয়ে পোলিশ তারকার তেমন কোনো অর্জন না থাকলেও ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গত মৌসুমে বুন্ডেসলিগায় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন ২০২০ সালের ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জয়ী তারকা। আগামী ২৯ নভেম্বর প্যারিসে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। ১৯৫৬ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দেরই দেওয়া হতো। এরপর থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর ২০০৭ সাল থেকে ইউরোপের সেরা নয়, পুরস্কারটি দেয়া হতে থাকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে। ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার আর ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর একীভূত হয়েছিল ২০১০ সালে। ফিফার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল থেকে আবার একাই ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে ফ্রান্স ফুটবল। ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ করা হয় সাংবাদিকদের ভোটে।
২০২১ ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা:
রিয়াদ মাহরেজ (ম্যানচেস্টার সিটি/আলজেরিয়া), এনগোলো কঁতে (চেলসি/ফ্রান্স), ম্যাসন মাউন্ট (চেলসি/ইংল্যান্ড), লিওনার্দো বোনুচ্চি (ইউভেন্তুস/ইতালি), আর্লিং হলান্ড (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড/নরওয়ে), করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স), জানলুইজি দোন্নারুম্মা (পিএসজি/ইতালি), নিকোলো বারেল্লা (ইন্টার মিলান/ইতালি), রাহিম স্টার্লিং (ম্যানচেস্টার সিটি/ইংল্যান্ড), হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটস্পার/ইংল্যান্ড), লিওনেল মেসি (পিএসজি/আর্জেন্টিনা), জর্জো কিয়েল্লিনি (ইউভেন্তুস/ইতালি), লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ/ক্রোয়েশিয়া), ব্রুনো ফের্নান্দেস
(ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল), পেদ্রি(বার্সেলোনা/স্পেন), নেইমার (পিএসজি/ব্রাজিল), কেভিন ডে ব্রুইনে (ম্যানচেস্টার সিটি/বেলজিয়াম), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি/পর্তুগাল), লাউতারো মার্তিনেস (ইন্টার মিলান/আর্জেন্টিনা), সিমোন কেয়া (এসি মিলান/ডেনমার্ক), রবের্ত লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনখ/পোল্যান্ড), জর্জিনিয়ো (চেলসি/ইতালি), সেসার আসপিলিকুয়েতা (চেলসি/স্পেন), মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল/মিশর), রোমেলু লুকাকু (চেলসি/বেলজিয়াম), ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল), জেরার্দ মোরেনো (ভিয়ারিয়াল/স্পেন), ফিল ফোডেন (ম্যানচেস্টার সিটি/ইংল্যান্ড), কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি/ফ্রান্স), লুইস সুয়ারেস (আতলেতিকো মাদ্রিদ/উরুগুয়ে)
শেষ ১০ বারের বর্ষসেরা ফুটবলার:
একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর
২০১১ লিওনেল মেসি
২০১২ লিওনেল মেসি
২০১৩ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
২০১৪ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
২০১৫ লিওনেল মেসি
দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার ব্যালন ডি’অর
২০১৬ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
২০১৭ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
২০১৮ লুকা মদ্রিচ লুকা মদ্রিচ
২০১৯ লিওনেল মেসি লিওনেল মেসি
২০২০ রবের্ত লেভানদোভস্কি (কোভিডের কারণে দেওয়া হয়নি)