November 30, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, November 24th, 2022, 9:35 pm

এনবিআরের শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে বিপুলসংখ্যক জনবলের অনুমোদন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে বিপুলসংখ্যক জনবল সৃজনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের সংস্কার, পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণে দেশে নতুন করে চারটি কাস্টম হাউজ গঠন করা হচ্ছে। তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় হবে বে-কাস্টম হাউজ ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ আইসিডি। বাকি দুটির একটি কক্সবাজারে মাতারবাড়ী কাস্টম হাউজ ও অন্যটি সাতক্ষীরায় ভোমরা কাস্টম হাউজ। কাস্টমসের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি ইকোনমিক জোন কমিশনারেট গঠিত হবে। পাশাপাশি গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার ও বরিশালে ৫টি নতুন ভ্যাট কমিশনারেট স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন হয়েছে। তাছাড়া আমদানি হওয়া পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকার তেজগাঁওয়ে কাস্টমস কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এনবিআরের আওতাধীন শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগে মোট ৬ হাজার ১৯৬ পদ সৃজনের অনুমোদন দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ক্যাডার পদে ৪৩৫টি ও অন্যান্য পদে ৫ হাজার ৭৬১টি। এনবিআর অবশ্য দেশে রাজস্ব আহরণের গতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের অনুকূলে সংস্কার, পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণে মোট ১১ হাজার ৯২১টি পদ সৃজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ২৩৪টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৯৩টি ও তৃতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ১৯৪টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের অনুরোধ ছিল।
সূত্র জানায়, এমডিজি ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আহরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজস্ব আহরণ গতি বাড়াতে এনবিআরের মাঠ অফিসের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে এনবিআরের শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগে অনুমোদিত জনবলের অর্ধেকসংখ্যক কর্মরত। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পণ্য যাচাইকরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন) সম্পর্কিত এক স্থায়ী আদেশে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া চালানের অনধিক ১০ শতাংশ কায়িক পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাতে পরীক্ষার জন্য চালান নির্বাচনে কম্পিউটারের সাহায্যে দৈবচয়ন (র্যানডম সিলেকশন) পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তার পদায়ন না হওয়ায় বাস্তবে ওই নির্দেশনা পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না। এ সুযোগে এক প্রতিষ্ঠানের বিআইএন (ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর) ব্যবহার করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান চালান খালাস করে নেয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। আবার রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য রপ্তানি না করেই প্রতারক চক্র রপ্তানি দেখিয়ে নগদ সহায়তার টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ কম হারের কিংবা নগদ সহায়তার আওতাবহির্ভূত পণ্য রপ্তানি করে বেশি হারের পণ্য দেখাচ্ছে। আবার একই পণ্য কম রপ্তানি করে বেশি দেখিয়েও নগদ সহায়তার অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। অথচ প্রতি বছর বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও ওই তুলনায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। ফলে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে উপযুক্ত রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম সম্ভব হচ্ছে না। কাস্টমসের নিজস্ব পর্যবেক্ষণেই বারবার এ তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র আরো জানায়, নতুনভাবে গঠিত হতে যাওয়া দপ্তরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে বে-কাস্টম হাউজের জন্য ২২৭টি পদ (ক্যাডার সার্ভিসের ২০ পদ), কাস্টম হাউজ আইসিডিতে ১৮০ পদ (ক্যাডার ২০), কক্সবাজারে মাতারবাড়ী কাস্টম হাউজ প্রতিষ্ঠা করে ১৮৭ পদ (ক্যাডার ১৯), চট্টগ্রাম ইকোনমিক জোন কমিশনারেটে ১৬০ (ক্যাডার ১৬), কক্সবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ১৭১ পদ (ক্যাডার ১০), গাজীপুর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ৩৫০, নারায়ণগঞ্জ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ৩২৩ পদ (ক্যাডার ১১), সাতক্ষীরায় ভোমরা কাস্টম হাউজ প্রতিষ্ঠা করে ৭৯ পদ (ক্যাডার ৯), ময়মনসিংহ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ২০৬ পদ (ক্যাডার ৮), বরিশাল কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ২৭৭ পদ (ক্যাডার ১২), কাস্টমস কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার কমিশনারেটে ৮৯ (ক্যাডার ১) ও ঢাকা ইকোনমিক জোন কমিশনারেটে ১৬০ (ক্যাডার ১৬) পদ সৃজনের সম্মতি পেয়েছে এনবিআর। তাছাড়া অবশিষ্ট ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের নিয়োগের অনুমোদন হয়েছে বর্তমানে কার্যক্রমে থাকা ঢাকা কাস্টম হাউজে ২৯৩টি, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ১৪০, আইসিডি কমলাপুর কাস্টমসে ৫৪, পানগাঁও কাস্টমস ৫০, বেনাপোল কাস্টমস ৪৪, মোংলা কাস্টমস ৬০, ঢাকা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে (পূর্ব) ২৩৮, ঢাকা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে (পশ্চিম) ২০৮, ঢাকা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে (উত্তর) ৩৬২, ঢাকা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে (দক্ষিণ) ৩০৬, সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ১৮৫, রংপুর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ৯৫, চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ১৪৮, কুমিল্লা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ১০৫, খুলনা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ১৩৯, রাজশাহী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে ১২৮, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে ৩৭০, বৃহৎ করদাতা ইউনিটে ৫১, চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে ৮৬, নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে (মূল্য সংযোজন) ২৮৮, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট ঢাকা-১ এ ২৩, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট ঢাকা-২-এ ২৩, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট খুলনায় ২২, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট চট্টগ্রামে ২৪, শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরে ৩৬, শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটে ১৪০ এবং কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি চট্টগ্রামের জন্য ১৮টি পদ।
এদিকে এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য ড. আবদুল মান্নান শিকদার জানান, এনবিআর শুল্ক ও ভ্যাট অনুবিভাগের সংস্কার, পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণে রাজস্ব খাতে প্রায় ১২ হাজার পদ সৃজনের প্রস্তাব করেছিল। তবে সেটা কমিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রায় অর্ধেক অনুমোদন করেছে।