May 28, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, March 2nd, 2022, 8:22 pm

এশিয়ার লাখো মানুষ বাস্তুহারা হবে: জাতিসংঘ

ফাইল ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক দশকে এশিয়ার লাখ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়বে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত নিমজ্জিত হয়ে যাওয়া শহরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা অন্যতম। খুব দ্রুতই জলবায়ু পরিবর্তন শহরটির বিভিন্ন অংশকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। জাভা সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী এক দশকে শহরটির আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ নিমজ্জিত হয়ে যাবে।

ইন্দোনেশিয়া সরকার রাজধানী এক হাজার ২৪০ মাইল (২০০০ কিলোমিটার) উত্তর-পূর্বের বোর্নিও দ্বীপে সরানোর পরিকল্পনা করছে। এজন্য কমপক্ষে ১৫ লাখ বেসামরিক কর্মচারীকে দ্বীপটিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এটি একটি বিশাল উদ্যোগ, তবে এটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার জনগণের গণআন্দোলনের ফল। আগামী দিনগুলোতে এশিয়ার অন্যান্য দেশেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি আন্তঃসরকারি প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ রিপোর্ট অনুসারে, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খরা, অধিক তাপমাত্রা এবং অন্যান্য জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে আগামী ৩০ বছরে ১৪৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়বে।

এশিয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে ইতোমধ্যে এটি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন অভিবাসী এশিয়া থেকে এসেছে। চরম আবহাওয়া, ঝড় ও বন্যার কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংখ্যার দিক থেকে এশিয়ার অবস্থান সবার ওপরে। একে একে গ্রামগুলি খালি হয়ে যাওয়া ও জাকার্তার মতো মেগাসিটিগুলি ঝুঁকির মধ্যে থাকায় বিজ্ঞানীরা অভিবাসন বৃদ্ধির ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে পানির অভাব, ফসল বিনষ্ট, ঝড়বৃষ্টি এবং অন্যান্য বিপর্যয়ের কারণে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ক্রিস ফিল্ড বলেছেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে বর্তমানে অল্প কিছু স্থান রয়েছে যেগুলো বসবাসের জন্য অধিক উষ্ণ। তবে এশিয়ায় এরকম স্থানের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে, ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর পরিণতি ও প্রভাব সম্পর্কে আমাদের কঠোরভাবে ভাবতে হবে।

ঢাকার একটি জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আমালি টাওয়ার বলেছেন, মানুষ সহিংসতা ও দারিদ্র্যসহ বিভিন্ন কারণে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়, তবে বাংলাদেশে যা ঘটছে তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকাই বেশি।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কমপক্ষে দুই মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় শহর ছেড়ে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি অভিবাসী রাজধানী ঢাকায় আসছে।

টাওয়ার বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো যদি তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে তবে অভিবাসন প্রবাহের লাগাম কিছুটা টানা যেতে পারে। বারবার বলা হচ্ছে যেসব ধনী দেশ বেশি পরিমাণে কার্বণ নির্গমন করে, তাদের উচিত জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের মানবিক ভিসা দেয়া।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে জলবায়ু অভিবাসীদের ব্যবস্থাপনা সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার জন্য একটি প্রধান নীতিগত সমস্যা হয়ে উঠবে। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বেশিরভাগ মানুষ গ্রাম থেকে শহরে চলে যাবে। বিশেষ করে এশিয়ায় আগামী ৩০ বছরে মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ শহরে বসবাস শুরু করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইন দক্ষিণ এশিয়ার অনুশীলন ব্যবস্থাপক আভাস ঝা বলেছেন, জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে মূলত গ্রাম থেকে জনগণ শহরে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখানে গিয়ে তারা বস্তিতে বাস করে।

বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈশ্বিক সংগঠন মেয়র মাইগ্রেশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ভিত্তোরিয়া জানুসো বলেছেন, স্থানান্তরের কারণে কোনও সঙ্কট তৈরি করতে দেয়া হবে না।

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ঢাকার উত্তর সিটির কর্মকর্তারা জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে এবং পানি সরবরাহের ব্যববস্থার উন্নয়ন করছে।

জানুসো বলেন, তারা ‘জলবায়ু আশ্রয়স্থল’ হিসেবে অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর জন্য ছোট শহরগুলির সঙ্গে একত্রে কাজ করছে।

—ইউএনবি