October 4, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, December 14th, 2021, 8:34 pm

ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে অগ্রগতি নেই

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একবার ব্যবহারযোগ্য তথা ওয়ান-টাইম বা সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সে অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তবে এর ব্যবহার বন্ধে উপকূলীয় ১২ জেলার ৪০টি উপজেলায় বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এদিকে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরের আটটি এলাকাসহ উপকূলীয় ৪০ উপজেলায় একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তিন বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওয়ান-টাইম গ্লাস, প্লেট ও অন্যান্য পণ্য, জুসের স্ট্র, ললিপপ কভার, স্যাসেট, সিগারেটের ফিল্টার, কটন বাড, সার্জিক্যাল গ্লাভস বা মাস্ক এবং নন-রিসাইকেবল পণ্য (মাল্টিলেয়ার প্যাকেট)।
প্লাস্টিক বন্ধের প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলো হলো বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ, বরগুনার আমতলী, সদর, পাথরঘাটা ও বামনা, ভোলার সদর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, দৌলতখান, লালমোহন, মনপুরা ও তজুুমদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর (বন্দর, ডাবলমুরিং, পাহাড়তলী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, হালিশহর, কোতোয়ালি ও বায়েজিদ বোস্তামী), চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বাঁশখালী, মিরসরাই, সন্দ্বীপ ও সীতাকু-, কক্সবাজারের চকরিয়া, সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, রামু ও টেকনাফ, ফেনীর সোনাগাজী, খুলনার দাকোপ ও কয়রা, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া ও সদর, পটুয়াখালীর দশমিনা, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও কলাপাড়া, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা।
চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে তিন ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২১ সালের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান এবং অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বন্ধ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সৈকতসংলগ্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড, ঘোষিত পাবলিক প্লেস, উপজেলা অন্তর্গত সরকারি-আধাসরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ হবে। তৃতীয় ধাপে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে সৈকতসংলগ্ন সব উপজেলা ও ডিসেম্বরের মধ্যে সৈকতসংলগ্ন জেলায় বন্ধ করা হবে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই এলাকায় পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ ও বর্জ্য ফেলার সুবিধাদি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য বন্ধে তাগিদ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিনসহ প্লাস্টিক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। তাই পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে উপকূলে প্লাস্টিক বন্ধে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পবিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম চলছে।
এর আগে গত বছর একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উপকূলীয় এলাকাসহ স্থানীয় হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় পলিথিন, প্লাস্টিক ব্যাগ ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার, বহন, বিক্রি ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইন অনুসারে নিষিদ্ধ পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার বন্ধের বিষয়টি কঠোরভাবে কার্যকর করতে বাজার তদারকি, উৎপাদন, কারখানা বন্ধ ও যন্ত্রপাতি জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ (বেলা) ১১টি সংগঠন রিটটি করে। উল্লেখ্য, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ প্রতিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এসব পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রাণিবৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে।