December 2, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, November 18th, 2021, 8:39 pm

কলাবাগানে সেই ছাত্রী ধর্ষণ-হত্যা মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর কলাবাগানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীর (১৭) যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর কারণ উঠে এসেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চার্জশিটে। ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি ফারদিন ইফতেখার দিহানের (১৮) বিরুদ্ধে দেওয়া ওই চার্জশিটে বলা হয়েছে, সেই শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে তার নির্জন বাসায় নিয়ে যান দিহান। বাসায় অমানবিকভাবে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ পাশবিক লালসা চরিতার্থ করেন আসামি। এ ক্ষেত্রে বর্বরোচিত ও পৈশাচিক কায়দায় ফরেন বডিও (বিকৃত যৌনাচারের উপকরণ) ব্যবহার করেন তিনি। গত ৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিটটি দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক খালেদ সাইফুল্লাহ। চার্জশিটের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছে ৫৫ জনকে। চার্জশিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভিকটিমের (শিক্ষার্থী) যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হওয়ার একমাত্র কারণ, আসামি দিহান ভিকটিমকে ফুসলিয়ে তার নির্জন বাসায় এনে অমানবিকভাবে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বর্বরোচিত ও পৈশাচিকভাবে ফরেন বডি ভিকটিমের গোপনাঙ্গে প্রবেশ করান। ধর্ষণের সময় আসামি দিহানের অমানবিক কার্যকলাপের কারণে গোপনাঙ্গে প্রচুর রক্তক্ষরণের সৃষ্টি হলে ভিকটিম অচেতন হয়ে পড়েন। আসামি ধর্ষণের বিষয়টি কৌশলে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ভিকটিমকে সঙ্গে নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। ধর্ষণের পর আসামি দিহান ভিকটিমের পরনের ভেতরের পোশাক ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে নিজের টি শার্ট ও প্যান্ট পরিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ খুব দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে চলে যাওয়ায় আসামি দিহান পালানো বা অন্য কোনো পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হন। চার্জশিটে বলা হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামি দিহানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে আসামির বিরুদ্ধে ওই আইনের একই ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো। এ বছরের ৭ জানুয়ারি রাতে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফারদিন ইফতেখার দিহানকে আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। এর এক ঘণ্টা পর তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বের হন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই ছাত্রী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপারস আনার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। আসামি দিহান দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিল। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে শিক্ষার্থীর মা হাসপাতালে পৌঁছান। হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তার কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আসামি নিজেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ মামলায় গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছা জবানবন্দি দেন আসামি দিহান।