July 1, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, May 26th, 2022, 8:16 pm

কাশ্মীরের নেতা ইয়াসিন মালিকের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক :

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। তার মৃত্যুদন্ডের আবেদন করেছিল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে দিল্লির এনআইএ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিচারক শাস্তির সিদ্ধান্ত রিজার্ভ রাখেন। অবশেষে গত বুধবার সাজা ঘোষণা করে আদালত। দুটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। ইয়াসিনের সাজা ঘোষণার আগেই শ্রীনগরে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনী। ইয়াসিনের বিরুদ্ধে বেআইনী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন- (ইউএপিএ) ধারায় জঙ্গি কার্যকলাপ, সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, জঙ্গি সংগঠনের প্রত্যক্ষ সদস্যপদ গ্রহণসহ একাধিক মামলা করা হয়েছিল। এনআইএ আদালতে জানায়, কাশ্মীরের স্বাধীনতা সংগ্রামের নাম করে একটি বিরাট জঙ্গিজাল বুনেছিলেন ইয়াসিন। বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তা জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। গত ১০ মে নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন ইয়াসিন। ১৯ মে ইয়াসিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। ইয়াসিন আদালতকে বলেন, তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে অস্ত্র ছেড়েছেন। তার পর থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রদর্শিত পথেই চলেছেন। তিনি আরও জানান, এরপর থেকে তিনি আর রাজনীতি করবেন না। তাই আদালত যদি তাকে মৃত্যুদন্ড দেন, তিনি আপত্তি করবেন না। উল্লেখ্য, বহুদিন ধরেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম চালানোর ও তা প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের নেতা ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে। এই কারণে একাধিকবার গৃহবন্দিও করে রাখা হয় তাকে। ইয়াসিনের সংগঠন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টকে আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দুই বছর আগে তাকে জঙ্গিদের মদদ দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে এনআইএ। তারপর থেকে জেলেই রয়েছেন ইয়াসিন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর উপত্যকায় জোর ধরপাকড় শুরু করে ভারতীয় সেনা। তখনই ইয়াসিন মালিকসহ বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার জঙ্গিযোগের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সেসময়ে গ্রেফতার হন ইয়াসিন। ইয়াসিনের সাজা ঘোষণার পর কাশ্মীর উপত্যকায় অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই শ্রীনগরসহ একাধিক এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।