July 16, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, December 24th, 2023, 8:20 pm

কুলাউড়ায় মনু নদী রক্ষা প্রকল্পে ৩০৭ কোটি টাকার কাজে ধীরগতি

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার :

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৪টি ইউনিয়নে চলছে মনু নদী তীর রক্ষা প্রকল্পের ৩০৭ কোটি টাকার কাজ। কিন্তু কাজের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কচ্ছপ গতিতে চলছে সরকারের বৃহৎ এ প্রকল্পের কাজ। ২০১৮ সালে মনু নদীর ভয়াবহ বন্যায় কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর, হাজীপুর, পৃথিমপাশা ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক গ্রামের প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে প্রতিরক্ষা বাঁধ, নদী আর গ্রাম কোনটির কোনো অস্তিত্ব থাকে না। সেই সঙ্গে এ ইউনিয়নগুলোর লোকজন প্রতিটি মুহুর্তে বন্যা আতঙ্কে তাদের দিন কাটে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছেন চার ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মনু নদীর ভয়াবহ বন্যা আর ভাঙন হতে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলাকে বন্যা ও নদী ভাঙ্গন থেকে মুক্ত রাখতে ২০২০ সালের ২১ জুন ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার এই বৃহৎ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়।

এরপর বিভিন্ন সময়ে দরপত্র আহবান করা হয় কাজের। এ প্রকল্পে কুলাউড়া উপজেলায় মোট ২৮টি প্যাকেজের কাজ রয়েছে। যার মোট চুক্তিমূল্য ৩০৭ কোটি টাকা। ২৮টি প্যাকেজের মধ্যে স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের ২০টি, চর অপসারণ কাজের ৪টি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ কাজের ৪টি প্যাকেজের কাজ রয়েছে।

স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের ২০টি প্যাকেজে মোট ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৮৩ টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৮টি সিসি ব্লক ডাম্পিং/প্লেসিং হবে। এখন পর্যন্ত মোট ৪০ লাখ ৪ হাজার ৪৪টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং ৯৬ লাখ ৮ হাজার ৪৬০টি সিসি ব্লক প্রস্তুত করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী চর অপসারণ কাজের ৪টি প্যাকেজে মোট ৫০২০ মিটার চর অপসারণ করা হবে।

এখন পর্যন্ত মোট ২৩২০ মিটার সম্পূর্ণ চর অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়াও কার্যাদেশ অনুযায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ কাজের ৪টি প্যাকেজে মোট ৩৫ হাজার ৫০০ মিটার বাঁধ পুনরাকৃতি করা হবে। এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৮০০ মিটার সম্পূর্ণ এবং ৬ হাজার ৮০০ মিটার আংশিক বাঁধ পুনরাকৃতি করা হয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলায় কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। চলতি মাসের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার মেয়াদ ছিল কিন্তু পরবর্তীতে পাউবো’র সিদ্ধান্তমতে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে জানা গেছে, অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান রয়েছে। অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখনো ব্লকের কাজ শুরু করেনি। অনেক প্রকল্পের কাজ ২২ সালের শেষের দিকে আবার অনেক প্রকল্পের কাজের মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়। পরে কাজের মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো যথাসময়ে বরাদ্দ পাচ্ছেনা বলে কাজে ধীরগতি হচ্ছে বলে জানান অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ কাজ :

৪টি প্যাকেজে ৪০ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যর কাজের মধ্যে পূর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৮০০ মিটার ও আংশিক হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ মিটার। এ কাজে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর হতে টিলাগাঁও ইউনিয়নের মনু রেলওয়ে ব্রীজ পর্যন্ত এলাকায় ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ হাজার ৪০০ মিটার কাজটি পায় আরবি-আইটি-কেএসএ নামের যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে মাত্র ৪০০ মিটার। কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ। টিলাগাঁও ইউনিয়নের মনু রেলওয়ে ব্রীজ থেকে টিলাগাঁও ইউনিয়নের হাজীপুর পর্যন্ত এলাকায় ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ হাজার ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যর কাজটি পায় মেসার্স মুমিনুল হক নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে পূর্ণ ও আংশিক মিলে কাজ হয়েছে ২ হাজার মিটার। কাজের অগ্রগতি ১৮.৮ শতাংশ। শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর হতে হাজীপুর ইউনিয়নের রনচাপ পর্যন্ত এলাকায় ১৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ হাজার ৮৫০ মিটার কাজটি পায় ইউআই-এমআর-কিউসি নামের যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে পূর্ণ ও আংশিক মিলে কাজ হয়েছে ৫ হাজার মিটার। কাজের অগ্রগতি ৩৬.৩৪ শতাংশ। হাজীপুর ইউনিয়নের রনচাপ হতে হাজীপুর ইউনিয়নের বাসুরী স্কুল পর্যন্ত এলাকায় ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার ৯০০ মিটারের কাজটি পায় মেসার্স আরাধনা এন্টারপ্রাইজ। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পূর্ণ ও আংশিক মিলে কাজ করেছে ৫ হাজার ২০০ মিটার। কাজের অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ।

স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ :

শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার কাজের মধ্যে ৫৪ হাজার ৩৩৮টি জিওব্যাগ ও ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৯৮টি ব্লক তৈরির কথা থাকলেও কেসিইএল এন্ড কেসিসি নামের যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একটিও ব্লক তৈরি করতে পারেনি। শুধু ৪ হাজার ৯৭২টি জিওব্যাগ তৈরি করেছে। কাজের অগ্রগতি মাত্র ১.৭৬ শতাংশ। তেলিবিল এলাকায় ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার কাজটি পায় মেসার্স হাসান এন্ড ব্রাদার্স মাহমুদ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ কাজে ৪১ হাজার ২৩৭টি জিওব্যাগ ও ১ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি ব্লক তৈরির কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৩ হাজার ৭৭৫টি ব্লক তৈরি করলেও একটিও জিওব্যাগ তৈরি করতে পারেনি। কাজের অগ্রগতি ১৩. ৮০ শতাংশ।

হাজীপুর ইউনিয়নের মাহতাবপুর এলাকায় ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার কাজে ১৫ হাজার ২০৭টি জিওব্যাগের মধ্যে ৭ হাজার ৮০০টি জিওব্যাগ তৈরি করলেও ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৩৬টি ব্লকের মধ্যে একটিও সিসি ব্লক তৈরি করতে পারেনি এমএস-এলজেআই-এসএমসি নামের যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩.৬৩।