November 26, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, October 26th, 2022, 8:32 pm

কুলাউড়ায় চা-বাগানে জুয়ার আসরে সাদা পোষাকে পুলিশের অভিযান, চার পুলিশ লাঞ্চিত

অবরুদ্ধ থানা পুলিশের এএসআই আক্কাছ উদ্দিনকে উদ্ধার করে বিক্ষুব্দ শ্রমিকদের শান্তনা দিচ্ছেন জয়চন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব মাহাবুব।

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি চা-বাগানের মন্ডপে (মন্দিরে) জুয়ার আসরে সাদা পোষাকে চার পুলিশ সদস্য অভিযান করতে গিয়ে শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের দিলদারপুর চা-বাগানের মন্ডপে শ্রমিকরা থানার এক সহকারি উপপরিদর্শকসহ পুলিশ সদস্যদের লাঞ্চিত ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত শ্রমিকরা। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব মাহাবুব পরিস্থিতি শান্ত করে অবরুদ্ধ পুলিশদের উদ্ধার করেন।

স্থানীয় শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শ্যামাপূজা উপলক্ষে সোমবার রাত থেকে দিলদারপুর চা-বাগানের শ্রমিকদের উদ্যোগে বাগানের পূজামন্ডপে বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলছিল। স্থানীয় কিছু লোক মন্ডপের পাশে জুয়া ও তাস খেলছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কুলাউড়া থানার এএসআই আক্কাস উদ্দিনসহ চার পুলিশ সদস্য সাদা পোষাকে সেখানে যান। এসময় জুয়ার আসরে থাকা লোকজনকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন ওই পুলিশ সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যের উপর হামলা চালায়। উত্তেজিত শ্রমিকদের রোষানল থেকে বাঁচতে পুলিশ সদস্যরা মন্ডপের পাশে একটি ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। এসময় উত্তেজিত লোকজন রাস্তার পাশে রাখা পুলিশ সদস্যদের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত কয়েকজন শ্রমিক জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পরে এএসআই আক্কাস উদ্দিনসহ ৪জন সাদা পোষাকের পুলিশ নিয়ে ম-পে এসে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। তখন উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিজয়া চা-বাগানের কয়েকজন শ্রমিক জানান, সন্ধ্যার পরপরই আক্কাস দারোগা এবং আরও ৩ জন সাদা পোষাকের পুলিশ এসে আমাদের বাগানের মন্ডপের পাশে বিভিন্ন লোকজনকে ধরপাকড়াও করেন। ওই সময় সেখানে আসর থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। এসময় জ্বালানী কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক আটকে চালকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন বলে জানা গেছে।

কুলাউড়া থানার এএসআই আক্কাস উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও মাদকের অভিযানের উদ্দেশ্যে তিনজন কনস্টেবল সঙ্গে নিয়ে দিলদারপুর চা-বাগান এলাকায় যাই। ফেরার পথে পূজামন্ডপে কাছে জুয়ার আসর চলতে দেখি। এসময় জুয়া খেলা বন্ধ করতে বললে কয়েকজন শ্রমিক উত্তেজনার সৃষ্টি করে। টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে বাগানের শ্রমিক ও জুয়ারীরা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।

জয়চন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব মাহাবুব জানান, বাগানে শ্রমিকরা পূজো করছিলো। এ সময় সাদা পোষাকে পুলিশ সেখানে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একটু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি থানার ওসিকে অবগত করেছি। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাগানের শ্রমিকদের শান্ত করে পরিস্থিতি শান্ত করি।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুছ ছালেক মুঠোফোনে বলেন, দিলদারপুর বাগানে কোন বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সদস্যরা দুইজন গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামীকে ধরতে ওই এলাকায় যায়। ওই সময় বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতিসহ মন্ডপের নাচ ঘরে পুলিশ সদস্যরা বসে ছিলেন। এসময় সেখানে থাকা কিছু শ্রমিক উশৃঙ্খলতা করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পুলিশ লাঞ্চিত ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের বিষয়টি ঘটেছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছি।