September 25, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, December 30th, 2021, 6:41 pm

গণহত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

ছবি: এপি

অনলাইন ডেস্ক :

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আবারও তাদের গণহত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে ফিরে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এপির এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এসময় এপি কমপক্ষে ৪০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে, সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, স্যাটেলাইট থেকে তথ্য নিয়ে এবং মৃতের সংখ্যা পর্যালোচনা করে।

এপির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেনাবাহিনী একদিকে যেমন দেশের বেসামরিক নাগরিকের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী দলগুলোর ওপরও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি জান্তাবাহিনী দেশের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটির কিশোর, তরুণ, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে সেনাবাহিনীর এ ধরনের গণহত্যা ও নগ্ন হিংস্রতার চিত্র উঠে এসেছিল দেশটির মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতন থেকে। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সেসময় প্রাণ হারান।

গত ক্রিসমাসের সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের কারেন্নি নৃগোষ্ঠীর ৩৫ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এ হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী এপিকে জানিয়েছেন, হত্যার পর অজ্ঞাত পরিচয়ের অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুর লাশ পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

কিন্তু বর্তমানে সেনবাহিনী তাদের বৌদ্ধ বামার সম্প্রদায়ের মানুষের ওপরও একই ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বৌদ্ধ বামার জনবহুল অংশেও সেনাবাহিনীকে ব্যাপক গণহত্যা চালাতে দেখা যাচ্ছে।

মিয়ানমারে রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তা সংস্থার (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে শুধুমাত্র সাগাইং অঞ্চলে তিন বা তার বেশি হত্যাকাণ্ডে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এই মৃত্যু প্রবণতার হিসাবে সাগাইংকে মিয়ানমারের সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত করেছে৷

এছাড়া বিরোধীদের সমর্থন থাকতে পারে এমন গ্রাম পুরো ধ্বংস করার জন্য আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। ম্যাক্সার টেকনোলজিস থেকে প্রাপ্ত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর থেকে শুধুমাত্র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর থান্টলাং-এ ৫৮০ টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে গেছে।

এএপিপির তথ্য যাচাইয়ের জন্য এপি কয়েক ডজন সাক্ষী, নিহতদের পরিবারের সদস্য, পদত্যাগ করেছিলেন এমন একজন সামরিক কমান্ডার, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এছাড়াও স্যাটেলাইট ইমেজ এবং কয়েক ডজন ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছে এপি।

তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সম্ভবত প্রকাশিত মৃতের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। কারণ সেনাবাহিনী বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, এবং তখন ওইসব অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়; যাতে করে নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ না হতে পারে।

কিয়াও মো টুন, যিনি সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পরে মিয়ানমারের জাতিসংঘের দূত হিসেবে তার অবস্থান ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন; তিনি বলেছেন এই মুহুর্তে সারা দেশে একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশে ব্যাপক গণহত্যা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

তিনি এপিকে আরও বলেন, গণহত্যার ধরন দেখুন। তারা যেভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে বোঝা যায় এগুলো পূর্বপরিকল্পিত ও ভয়াবহ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর গবেষক ম্যানি মং বলেছেন, কতটা নির্লজ্জভাবে এইসব হামলা করা হয়েছে তাতে সত্যিই বোঝা যায় যে আমরা আগামীতে; বিশেষ করে আগামী বছর অনেক সহিংসতার মুখোমুখি হবো।