September 27, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, August 21st, 2022, 3:20 pm

গ্যাস অনুসন্ধানে জোর না দেয়ায় উল্লেখযোগ্য মজুদ পাওয়া যায়নি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গ্যাস অনুসন্ধানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গত দুই দশকে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনকি গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে গত চার দশকে যেসব জরিপ হয়েছে। সেগুলোর বিষয়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আর গ্যাস অনুসন্ধানে বড় ধরনের উদ্যোগ না নেয়ায় উল্লেখযোগ্য নতুন মজুদও আবিষ্কৃত হয়নি। বরং তার বিপরীতে আমদানিনির্ভরতায় জোর দেয়া হয়েছে। ফলে দেশের গ্যাস খাতে নেতিবাচক ফল গেছে। চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্প-কারখানা ও বিদু উৎপাদন সঙ্কটে পড়েছে। এমনকি আবাসিকেও গ্যাস সঙ্কট রয়েছে। বৈশ্বিকভাবে প্রতি ৫টি অনুসন্ধান কূপের বিপরীতে একটিতে গ্যাস পাওয়া যায়। বাংলাদেশে তার চেয়ে ভালো ফল পাওয়ার পরও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেয়া হয়নি। জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ এবং পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪১টি কূপ খনন করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরে খনন করা হয়েছে একটিরও কম কূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসক্ষেত্র থাকা কোনো দেশে বছরে এর চেয়ে কম কূপ খননের নজির নেই। বিগত ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৭৭টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে ২৩টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। তার মধ্যে ২০০২-০৮ পর্যন্ত মাত্র দুটি কূপ খনন হয়। তারপর গত ১৩ বছরে আরো ১৯টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রি সাড়ে ৩টি কূপ খননে একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুজাতিক কোম্পানি শেল অয়েলের মালিকানায় থাকা ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাসটিলা, বাখরাবাদ ও রশিদপুর ওই পাঁচ গ্যাসক্ষেত্র ক্রয়ে ১৯৭৫ সালে চুক্তি সই হয়। বঙ্গবন্ধু গ্যাসক্ষেত্রগুলো কিনে রাষ্ট্রীয়করণ করেন। আর বঙ্গবন্ধুর কেনা ওই পাঁচ গ্যাসক্ষেত্র এখনো দেশীয় কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের ৮২ শতাংশ জোগান দিচ্ছে। তাছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে আরো ১৪টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ওসব গ্যাসক্ষেত্র স্থানীয় কোম্পানিই আবিষ্কার করেছে। কিন্তু সেখান থেকে বড় ধরনের কোনো মজুদ আবিষ্কার হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, স্থানীয় ৩টি গ্যাস কোম্পানির আওতায় বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কেনা ৫টি কূপ থেকেই সরবরাহ হচ্ছে ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাস। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কেনা ৫টি গ্যাসক্ষেত্রে সাড়ে ১২ টিসিএফ গ্যাস রিজার্ভ ছিল। তখনকার সময়ে ওই গ্যাসের আর্থিক মূল্য ছিল ৪-৫ মিলিয়ন ডলার। আর মজুদ ওই গ্যাসের বর্তমান বাজারমূল্য ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এদিকে জ¦ালানি বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ২১টি অনুসন্ধান কূপ, ৫০টি উন্নয়ন কূপ ও ৫৬টি ওয়ার্কওভার কূপ খনন করা হয়েছে। ফলে দেশীয় উৎস থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে। এই সময়ে আধুনিক ৪টি রিগ কেনা হয়েছে। ৫টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ৩১ হাজার ৫০২ কিলোমিটার টুডি সিসমিক জরিপ এবং ৬ হাজার ৬১ কিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক জরিপ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধির জন্য ২২টি ওয়েলহেড কম্প্রেসার বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। তার মধ্যে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র উৎপাদনে রয়েছে। সেগুলোর মোট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি। তার মধ্যে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন ও তাল্লোর নিয়ন্ত্রণে গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ সক্ষমতা দেশীয় তিনটি কোম্পানির আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ে অতিসম্প্রতি জ¦ালানি নিরাপত্তা-বিষয়ক এক সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে দেশে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। ২০০৯ সালে দেশে গ্যাস সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমান সরকার তা ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে গ্যাসের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। যে কারণে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটা বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।