November 30, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, November 20th, 2022, 10:05 pm

চট্টগ্রাম বন্দরের অকশন শেডে স্তূপ থাকা মালামাল সরানোর উদ্যোগ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম বন্দরের অশশন শেডে বিপুল পরিমাণ পুরনো মালামাল দীর্ঘদিন ধরেই স্তূপাকারে পড়ে রয়েছে। বিগত এক দশকে ওই শেডে ১১০টি গাড়ির জঞ্জাল জমেছে। তার মধ্যে ট্রাক, প্রাইভেটকার, মিনিবাস, বাস, জিপ, লরি, প্রাইম মুভার ও ডাম্প পিকআপ রয়েছে। তাছাড়াও সেখানে পড়ে রয়েছে সার, পচা মাংস, বিভিন্ন নষ্ট কাপড়, মেশিনারিজসহ অন্যান্য জিনিসও। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৮৭৮টি লটে তেমন প্রায় ৪২১ টন পণ্যের তালিকা করেছে। আর ওসব পণ্য ধ্বংস করা গেলে ৫ একর মূল্যবান জায়গা উন্মুক্ত হবে। তাতে নতুন করে ৪ থেকে ৫ হাজার কনটেইনার রাখা যাবে। যদিও পুরনো স্তূপকৃত মালামাল সরানোর সিদ্ধান্তে আসতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বন্দরের অকশন শেডের পুরনো সব পচা ও নষ্ট মালামাল নগরীর হালিশহরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনের ময়লার ফেলা হবে। ইতোমধ্যে কাভার্ডভ্যানে পচা পণ্যগুলো তুলে সিলসহ লক করে দিয়ে কাস্টমস আনসার দিয়ে ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পণ্যগুলো ধ্বংস করা হবে।
সূত্র জানায়, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অকশন শেড খালি করতে এর আগে অন্তত ৫ দফা চেষ্টা করেছে। দফায় দফায় নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু নানা কারণে ওসব উদ্যোগ আলোর মুখ দেখছিল না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষগত সেপ্টেম্বরেও অকশন শেডে থাকা পণ্যগুলোর পুনরায় ইনভেনট্রি করে। সর্বশেষ গত ২৪ মে কাস্টম হাউসের তৎকালীন নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে পুরোনো অকশন শেডে থাকা পণ্যের দাবিদার কিংবা নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতারা যাতে ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পণ্য নিয়ে যান ওই নির্দেশনা ছিল। অন্যথায় ওসব পণ্যের দাবিদার নেই ধরে নিয়ে পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। পণ্যগুলো শনাক্ত করতে তখন তালিকাও প্রকাশ করা হয়। অকশন শেডটি খালি করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস গত বছরের অক্টোবরেও একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তখন বলা হয়, পুরোনো অকশন শেডে থাকা বিভিন্ন পণ্যের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সব লটের ইনভেনট্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুরোনো অকশন শেডে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন মালপত্র ও গাড়ি রয়েছে। তার আগে কোনো নিলামে কোনো বিডার অংশগ্রহণ করে থাকলে অথবা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট লট বা গাড়ির বিপরীতে কোনো আমদানিকারকের মামলা ও অন্য কোনো আদেশ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণসহ ৭ দিনের মধ্যে কাস্টমসের নিলাম শাখাকে অবহিত করার কথা বলা হয়। অন্যথায় ওসব মালপত্রের কোনো দাবিদার নেই মর্মে বিবেচনা করে পণ্যের লটগুলো আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করবে কাস্টমস। বারবার এমন ঘোষণা দেয়া হলেও আইনি জটিলতায় তা সফল হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হস্তক্ষেপ করায় এবার ওসব বাধা দূর হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ অকশন শেডটি সরাতে কাস্টমসকে বন্দর স্টেডিয়ামের বিপরীতে ২৬ কোটি টাকা খরচে সমপরিমাণ জায়গায় নতুন অকশন শেড নির্মাণ করে দিয়েছে। বিগত ২০১৫ সালে তৎকালীন নৌপরিবহন নতুন অকশনের শেডটি উদ্বোধন করে। তারপর বন্দর কর্তৃপক্ষ তা চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বুঝিয়ে দেয়। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষগত ৭ বছরেও পুরোনো অকশন শেডটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি।
এদিকে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা জানান, বন্দরের ভেতরে জায়গা দখল করে থাকা অকশন শেডটি খালি করার ব্যাপারে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জোর দিয়েছেন। সেটি খালি করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষও দীর্ঘদিন কাজ করছিল। ইতোমধ্যে নতুন অকশন শেডও হয়েছে। অকশন শেডটি খালি করতে সেখানে থাকা ১১০টি পুরোনো গাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন সেখানে পচে-গেল যাওয়া ৮৭৮ লট পণ্য আছে। সেগুলো ধ্বংস করতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, খালি হওয়া স্থানে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার কনটেইনার রাখতে পারবে। আরো আগে কয়েক দফা এমন উদ্যোগ নেয়া হলেও নানা জটিলতায় সফল হওয়া যায়নি।