June 13, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, June 9th, 2024, 7:23 pm

চার জিম্মিকে মুক্ত করেছে ইসরায়েল, শনিবারের হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ২১০

এপি, গাজা :

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলিদের চারজনকে উদ্ধার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। শনিবার জিম্মিদের মুক্ত করতে উপত্যকায় ভারী বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে তাদের মুক্ত করা হয়।

তবে ইসরায়েলের চরম আগ্রাসনের বলি হয়েছে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের ওই হামলায় এখন পর্যন্ত শিশুসহ অন্তত ২১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ওই চারজন হলেন- নোয়া আরগামানি (২৬), আলগম মেইর (২২), আন্দ্রে কোজলভ (২৭) ও শ্লোমি জিভ (৪১)। তারা সবাই সুস্থ আছেন। ২৪৬ দিন জিম্মি থাকার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘোষণার পর ইসরায়েলি নাগরিকদের উল্লাস করতে দেখা যায়।

জিম্মি হওয়ার পর আরগামানি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান। একটি সংগীত উৎসব থেকে অন্য তিনজনের মতো তাকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে অপহরণের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে দুইজনের মাঝখানে বসে তিনি চিৎকার করছেন, ‘আমাকে মেরো না!’

আরগামানির মা লিওরা ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত। মেয়েকে ফিরত চেয়ে তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, মুক্ত করার পর আরগামানিকে তার মা যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইসরায়েল সরকারের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আরগামানিকে বলতে শোনা যায়, এতদিন পর হিব্রু শুনতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।

এদিকে, এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সমস্ত জিম্মিকে মুক্ত করা পর্যন্ত লড়াই চলবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্ট বলেছেন, অভিযানটি সত্যিকার অর্থেই ‘সাহসী, দুর্দান্ত পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ ও দারুণভাবে সম্পন্ন হয়েছে’।

শনিবার মধ্য গাজার নুসেইরাতের প্রাণকেন্দ্রে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। জিম্মিদের মুক্ত করতে একইসঙ্গে পৃথক দুই স্থানে হামলা শুরু করে তারা। এই অভিযানের সাফল্য হিসেবে ওই চারজনকে মুক্ত করতে সমর্থ হয় তারা।

ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি সাংবাদিকদের বলেন, সামরিক গোয়েন্দারা খবর দেয় যে, জিম্মিদের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কেন্দ্রস্থলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হয়েছে। ওই ক্যাম্প থেকে (ইসরায়েলি) সেনবাহিনীর দূরত্ব ছিল মাত্র ২০০ মিটারের মতো।’

তিনি বলেন, ‘ভবনে অভিযান শুরুর আগে সৈনিকদের বারবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’

‘দিনের আলোতেই আমরা অভিযান শুরু করি। কিন্তু বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ থেকে আমাদের ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এমনকি রকেটচালিত গ্রেনেডও আমাদের দিকে ছোড়া হচ্ছিল। এমন আক্রমণ মোকাবিলা করতে অভিযানে বিমানসহ আরও সেনা নিয়োগ করি।’

এ হামলায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে।

আল-আকসা শহিদ হাসপাতালের মুখপাত্র খলিল দেগ্রান অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলেন, হামলার পর প্রাথমিকভাবে ২৩ শিশু ও ১১ নারীসহ ১০৯ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। সেসময় শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

আল-আওদা হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, দুই হাসপাতালে সব মিলিয়ে অন্তত ২১০ মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে। তবে আল-আওদার পরিচালক প্রাথমিকভাবে মরদেহের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি বলেও জানান দেগ্রান।

অপরদিকে, হামলার পর লেবাননে অবস্থিত হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাইম বলেছেন, ‘জিম্মিদের মুক্ত করার অজুহাতে নেতানিয়াহু ও তার ফ্যাসিবাদি সরকারের হামলায় এ পর্যন্ত ২১০ জন নিহত ও ৪ শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে জিম্মিদের মুক্ত করার প্রস্তাব তিনি বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।’

নুসেইরাতের শরণার্থী শিবিরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিবেশী দেশ মিসরও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সমস্ত নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। প্রতিবেশী জর্ডানও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভেতর ঢুকে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক ইসরায়েলি নিহত হয় এবং প্রায় ২৫০ জন ইসরায়েলিকে জিম্মি করে নিয়ে যায় গাজার সশস্ত্র শাসকগোষ্ঠী।

এরপর নভেম্বরে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে জিম্মিদের প্রায় অর্ধেককে মুক্তি দেওয়া হয়। হামাসের হাতে এখনও প্রায় ১২০ জন জিম্মি রয়ে গেছে, যাদের মধ্যে ৪৩ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। জীবিতদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন নারী, ৫ বছরের কম বয়সী দুটি শিশু ও ৮০ বছর বয়সী দুই বৃদ্ধ রয়েছেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, ঘটনার সময় প্রায় ৩০ জন হাসাস যোদ্ধা ওই ভবনের ভেতরে ছিল। শনিবার নিহত ১৭ যোদ্ধার নাম প্রকাশ করে হামাস। তবে হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহতদের রেকর্ডের সঙ্গে মাত্র ৯টি নামের মিল পাওয়া গেছে।

হাসপা তালের রেকর্ড অনুযায়ী, অভিযুক্ত হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে একটি আট বছরের শিশুও রয়েছে।