January 20, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, January 15th, 2022, 8:42 pm

জনবলের অভাবে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তীব্র জনবলের অভাবে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন। ফলে নষ্ট হচ্ছে বিপুল টাকার আমদানি মেশিনারিজ। নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৭৩ শতাংশ পদই শূন্য। ফলে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের পরও কারখানারটির কোনো সুফল মিলছে না। বরং দেশের বৃহত্তম ওই কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলপথকে ঘিরে স্থাপিত হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ১১০ দশমিক ২৯ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে রয়েছে ২৮টি শপ (উপ-কারখানা)। কিন্তু ৮০ দশকে তৎকালীন বিএনপি সরকার অনেক রেলপথ সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় রেলওয়ে কারখানা থেকে অনেক কর্মকর্তাকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় করে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কারখানার দক্ষতা, উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে কারখানাটি আধুনিকায়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়। আর ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে তার কাজ শেষ হয় । প্রকল্পের আওতায় ব্রড ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগি এবং ওয়াগন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ১৭টি ওয়ার্কশপ মেরামত করা হয়। ৪৩ ধরনের মেকানিক্যাল ও ১৩ ধরনের ইলেকট্রিক্যাল মেশিনারিজ প্রতিস্থাপন করা হয়। তাছাড়া ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনসহ একটি ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দক্ষ জনবল না থাকায় আধুনিকায়নের কোনো সুফলই মিলছে না।
সূত্র জানায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর মঞ্জুরিকৃত ২ হাজার ৮৩৩টি পদের বিপরীতে মাত্র ৭০০ জন কর্মরত আছে। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগে ৪১৩ জনের বিপরীতে কর্মরত ১৪৯ জন। অর্থাৎ কারখানায় বর্তমানে ৭৩ শতাংশ অনুমোদিত পদ শূন্য রয়েছে। কারখানাটি চালু রাখতে এখন যে দক্ষ জনবল রয়েছে তাদের মধ্যে কেউ না কেউ অবসরে যাচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরাতন (দক্ষ) সব শ্রমিক অবসরে চলে যাবে। তাতে কারখানাটির উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে কারখানায় ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন তিন ইউনিট ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও হচ্ছে দুই ইউনিট। ইউনিট বলতে বোঝানো হয় চার চাকা বিশিষ্ট একটি কোচকে। আট চাকার কোচগুলোকে দুটি ইউনিট ধরা হয়। এক সময় ওই কারখানায় ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের ১ হাজার ২০০ রকমের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হলেও বর্তমানে তা ক্রয়নির্ভর হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বেশির ভাগ সময়ই মালামাল কেনার দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা হয়। ফলে কোচ ও ওয়াগন মেরামতের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যোগান সময়মতো আসে না। অনেক সময় নিম্নমানের মালামালও চলে আসে। সেগুলো ঠিকঠাক করতে গিয়ে অতিরিক্ত জনবল, কর্মঘণ্টা ও বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে কারখানাটির বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) জয়দুল ইসলাম জানান, কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতার কারণে জনবল সংকট সত্ত্বেও প্রতিদিন দুই ইউনিট ক্যারেজ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে। জরুরি জনবল নিয়োগ না দেয়া হলে কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।