June 17, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, February 19th, 2023, 10:53 am

জমে উঠেছে সিলেটের এসএমই মেলা

জেলা প্রতিনিধি, সিলেটঃ

বাহারি দেশি পণ্যের সাজে সেজেছে সিলেটের এসএমই মেলা। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বাঙালির ঐতিহ্যের বিভিন্ন নকশাঁ করা পোশাক, পাটজাত পণ্য, খাবার, জুতা, চামড়া পণ্য, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য মেলায় প্রদর্শিত ও বিক্রি হচ্ছে।

সিলেট নগরীর মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামে ৭ দিনব্যাপী চলা এ মেলায় বেশিরভাগ পণ্যে বিভিন্ন অঙ্কের মূল্যছাড় দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
১৬-২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ‘সিলেট বিভাগে এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয়’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১০ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার ৫২ টি স্টলে তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য বিক্রির পাশাপাশি প্রচার ও প্রসারের জন্য মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যার, পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী পন্যে ভরে গেছে।

শুক্রবার ও শনিবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের সমাগম ও বেচাকেনায় বেশ জমে উঠেছে গোটা মেলা প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন স্টলে দেখা যায় নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি নিপুণ কারুকাজের সব পণ্য। মেলার মাধ্যমে এ পণ্য সরাসরি বিক্রি করছেন তারা।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (এসএমই) শিল্প উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে ৭ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এবার মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণে নতুন পণ্য নিয়ে এসেছেন উদ্যোক্তারা। মেলায় দর্শনার্থীদের ভালো সাড়া পাওয়ায় বেচাকেনা বাড়ার আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

যশোর থেকে মেলায় অংশ নিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম নার্গিস । তিনি বলেন, নানান নকশাঁয় বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করে বাজারজাত করছি আমরা। ক্রেতা-দর্শনার্থীদেরও বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দিন থেকে ২য় দিনে দর্শনার্থী-ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বেচা-বিক্রিও বেশ জমে উঠেছে। নিজের পণ্য পরিচিতি বাড়াতে এবার মেলায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
টাঙ্গাইল থেকে মেলায় অংশ গ্রহণ করেছেন টি এইচ ফ্যাশন হাউজের স্বত্বাধিকারী নারী উদ্দোক্তা উর্মি আক্তার। তিনি বলেন, তাত ও বুটিকস সহ হাতের তৈরী বিভিন্ন ধরনের কাপড় নিয়ে মেলায় ষ্টল সাজিয়েছি, আশা করি সময় বাড়ার সাথে সাথে বিকিকিনি ভালো হবে।
মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতির পাশাপাশি অনেককেই কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন নকশার ফতুয়া, কামিজ, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের পোশাক, শাড়ি, মেয়েদের ভেনিটি ব্যাগ, পার্সসহ বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।
মনিপুরী হস্তশিল্প নিয়ে মেলায় অংশ গ্রহণ করেছেন নারী উদ্দোক্তা নিন্দিয়া সিনহা। আলাপকালে তিনি জানান, এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত মনীপুরি কাপড়ের প্রতি ক্রেতা সাধারণের আগ্রহ একটু বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে দু একদিনের মধ্যে হয়তো তা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাটজাত পণ্য প্রস্তুতকারী নারী উদ্দোক্তা সৈয়দা রোকেয়া সুলতানা জানান, যুগের পরিবর্তন হয়েছে। ক্রেতারা পাটজাত পণ্যে মজেছেন। ঘর সাজাতে পাটের নানান পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। পাটজাত পণ্যের মধ্যে ব্যাগের চাহিদা অনেক বেশি। মেলাটা সম্পূর্ণ দেশীয় মেলা। দেশের কৃষক ও পরিবেশ বাঁচাতে মানুষ এখন অনেক সচেতন। এ কারণে মূলত পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।’
ইউরোপের বাজারে তুলিকার পণ্য রপ্তানি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দেশের বহুমুখী পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা। ডাইভারসিটি প্রোডাক্ট হিসেবে পাটের অন্তত ২৭০টি পণ্য রয়েছে। মানুষ কিন্তু এখন আবার সেই প্রকৃতির কাছেই ফিরে যাচ্ছে। পরিবেশ বাঁচাতে কাজ করছে। তাই মেলায় পাট পণ্য কিনতে মানুষজন আগ্রহী হয়ে উঠছে।
মেলায় ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষক শাহ আলম বলেন, মেলায় বিভিন্ন ডিজাইনের হাতের কাজ করা পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে পছন্দের কয়েকটি পোশাক কেনা হয়েছে।
শিবগন্জ থেকে আসা হাসনা লিলি বলেন, মেলায় বিভিন্ন ধরনের পাটের ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, সেমিনার ব্যাগসহ বিভিন্ন সাইন ও কালারের ভেনিটি ব্যাগ দেখেছি। বেশিরভাগ ব্যাগ পছন্দ হয়েছে। কোনটা কিনবো তাই দিধায় ভুগছি।
মেলায় কামিজ ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায়, শো-পিস ৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা,ব্যাগ ১শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, জুতা ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা, সেন্ডেল ৩শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে রাজশাহীতে ১২-১৮ জানুয়ারি এবং বরিশালে ০১-০৭ ফেব্রুয়ারি ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা’ আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে রংপুর বিভাগের দিনাজপুরে ০১-০৭ মার্চ, খুলনা বিভাগের যশোরে ০৫-১১ মার্চ এবং ময়মনসিংহের জামালপুরে ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশনের।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে ‘বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৩-এর সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
মেলার আয়োজকরা জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও বাজার সম্প্রসারণ, পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সেতু বন্ধন তৈরিতে সহায়তা,এসএমই উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের মাঝে পারষ্পরিক সম্পর্ক স্থাপন ও পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভোক্তাসহ বিভিন্ন মহলের সৃজনশীল মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করাই মেলার মুল লক্ষ্য।