June 27, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, May 5th, 2022, 9:14 pm

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে ভোগান্তি চরমে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। সন্তানকে স্কুলে ভর্তির সময় মা-বাবার এনআইডি লাগে। এমনকি মৃত্যুর পরও মৃত ব্যক্তির পরিবারের নানা কাজে লাগে তার এনআইডি নম্বর। অপরাধী শনাক্ত করতেও এনআইডি জরুরি। কিন্তু এখনো সব ভোটারের কাছে তা না পৌঁছায় অনেকেই নানা হয়রানির মধ্যে পড়ছেন। অনেকে বিদেশে যেতে পারছেন না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন না। এমনকি নিজের নামে মোবাইল সিম পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। এনআইডি না থাকায় অনেকেই পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সেবা। ফলে এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দেশের নাগরিকদের। যদিও ছবিসহ ভোটার তালিকা করার প্রায় এক যুগ অতিবাহিত হয়েচে কিন্তু এখন পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য হালনাগাদ করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ খাতে কোটি কোটি টাকা খরচের পরও ২৫ শতাংশ ভোটার এখনো পাননি পরিচয়পত্র। যারা পেয়েছেন তাদের অনেকের পরিচয়পত্রে রয়েছে অসঙ্গতি। কিন্তু সংশোধন করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের ঘোষণা দিলেও তা সব সময় কাজ করছে না। এ বিষয়ে নেই কোনো প্রচারণাও। এর আগে ২০০৮ সালে সাধারণ ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ শুরু করে ইসি। এরপর বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় ২০১১ সালে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিস (আইডিইএ)’ প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি নাগরিককে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কাজ হাতে নেয় ইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে স্মার্টকার্ড উৎপাদন-বিতরণে অবার্থুর টেকনোলজিসের (ওটি) সঙ্গে চুক্তি করা হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার পর ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর থেকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিতরণ শুরু হয়। কিন্তু কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময়ে কার্ড দিতে পারেনি ফরাসি এই কোম্পানি। এজন্য কোম্পানিটির সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করেনি কমিশন। বর্তমানে দেশে তৈরি স্মার্টকার্ড ব্যবহারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এসব বিষয়ে আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ-২) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের বলেন, বর্তমানে ইসির কাছে ৪৫ লাখের মতো ব্ল্যাংক স্মার্টকার্ড রয়েছে। এ ছাড়া বিতরণের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে সাত কোটির মতো কার্ড। এগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ স্মার্টকার্ড। আইডিইএ-২ প্রকল্পের আওতায় আরও তিন কোটি স্মার্টকার্ড কেনা হবে। এজন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর হলেই উৎপাদন শুরু হবে।কবে থেকে দেশীয় স্মার্টকার্ড ব্যবহার শুরু হবে সে বিষষে তিনি বলেন, এই অর্থবছর থেকেই দেশীয় কার্ড ব্যবহার শুরু করবো। জুনের মধ্যে দেশীয় কার্ড ব্যবহার শুরু করবো। স্মার্টকার্ডের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের বলেন, স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করা হয়েছে সাত কোটি ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫৮টি। সেখান থেকে এরইমধ্যে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে সাত কোটি ৯ লাখ ৭৮টি। ভোটারদের মধ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭২টি। তিনি বলেন, আমাদের ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৫০ লাখের কাছাকাছি। আমাদের হাতে আছে সাড়ে সাত কোটি স্মার্টকার্ড। এ ছাড়া অবার্থুর টেকনোলজিসের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি পাচ্ছি এবং নতুন প্রকল্প থেকে কেনা হবে তিন কোটি। তাহলে সাড়ে ১২ কোটির মতো স্মার্টকার্ড আমাদের হাতে চলে আসবে। ফলে সবাইকেই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্মার্টকার্ড দিতে পারবো বলে আশা করি। এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানেন না বেশিরভাগ ভুক্তভোগী। আবেদন প্রক্রিয়া জানা না থাকায় বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই এনআইডি সংশোধন করতে চলে আসছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন করা যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো প্রচারণা নেই। অনলাইনে আবেদন করে তদবির না করলে কাজ হয় না। আবার জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার চেয়ে ছেলের বয়স বেশি এমনও ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া গেছে। নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম কিংবা গ্রামের নামের ভুল সংশোধনী নিয়ে মাস ও বছরের পর বছর মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভোগান্তির কথা স্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে অনেক হয়রানি আর ভোগান্তি হচ্ছে। কিছুকিছু মানুষের জন্য সুনাম বিঘিœত হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রভুর মতো আচরণ করলে হবে না, জনগণের ভৃত্য হিসেবে কাজ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন অপরিসীম উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভুল বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সংশোধনের ক্ষেত্রে কিন্তু ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’ তা নয়। আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।