February 5, 2023

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, January 10th, 2023, 8:08 pm

জোশিমঠ শহর থেকে সরানো হল ৪ হাজার বাসিন্দাকে

অনলাইন ডেস্ক :

ভারতের ‘দেবে যেতে থাকা’ হিমালয় অঞ্চলের ছোট শহর জোশিমঠ থেকে চার হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৬১৫১ ফুট (১৮৭৪ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত উত্তরাখন্ড রাজ্যের শহরটির ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৬৭০টিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব ভবনের মধ্যে মন্দির ও একটি রোপওয়েও আছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) থেকে ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভূমি অবনমনের সম্ভাব্য বিপদের মাত্রা বিবেচনায় শহরটিকে তিনটি অংশে বিভক্ত করে ‘ডেঞ্জার’, ‘বাফার’ ও ‘পুরোপুরি নিরাপদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘ডেঞ্জার’ অংশটি ৩৫০ মিটার প্রশস্ত বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এখানে রাস্তা ও ফুটপাতে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে, দুটি হোটেল ভবন একে অপরের ওপর ঠেস দিয়ে আছে আর নলকূপ দিয়ে অনবরত পানি বের হচ্ছে যার কারণ পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ‘দেবে যেতে থাকা’ শহরটিকে দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে এর ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় চার হাজার মানুষকে নিরাপদ এলাকাগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জোশিমঠের ৩০ শতাংশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে আর তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পেশ করা হবে।” উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সবাইকে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে শহরটিকে রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। জোশিমঠকে হিন্দু দেবতা বদ্রিনাথের ‘শীতকালীন আসন’ বলে বিবেচনা করা হয়। প্রতি শীতে বদ্রিনাথ শহরের প্রধান মন্দির থেকে বদ্রিনাথ দেবতার মূর্তি নিচে জোশিমঠ শহরের বাসুদেবা মন্দিরে নামিয়ে আনা হয়। শহরটি শিখদের পবিত্র মন্দির হেমকুন্ড সাহিবে যাওয়ারও প্রধান পথ। উত্তরাখন্ডের চামোলি জেলার এ শহরটি ‘গেটওয়ে অফ গাড়োয়াল’ নামেও পরিচিত। কিন্তু ধর্মীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটক, পর্বতারোহীদের প্রিয় এ গন্তব্যস্থলের বাসিন্দারা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ২ জানুয়ারি ভোরে জোরালো একটি শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ ভোতিয়ালের (৫২) ঘুম ভেঙে যায়। তিনি লাইট জ¦ালিয়ে তার নবনির্মিত দোতলা ভবন ঘুরে দেখে ১১টি ঘরের মধ্যে নয়টির দেয়ালে ফাটল দেখতে পান। তার আতঙ্কিত যৌথ পরিবারের ১১ সদস্য দ্রুত ওই দুটি ঘরে আশ্রয় নেয় যেখানে ফাটলগুলো সুতার মতো ক্ষিণ। তারপর থেকে তারা এই দুটি ঘরেই আছেন। ভোতিয়াল বলেন, “আমরা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকি। ছোট একটি শব্দেও সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। জরুরি কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হয়ে যেতে হবে এমন প্রস্তুতি নিয়েই ঘুমাতে যাই আমরা।” দিনমজুর দুর্গা প্রাসাদ সাকলানির (৫২) ছোট তিন রুমের বাড়িটির দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল তৈরি হওয়ার পর কর্মকর্তারা তাদের যৌথ পরিবারের ১৪ সদস্যকে স্থানীয় একটি হোটেলে নিয়ে রাখেন কিন্তু দিনের বেলা সাকলানিরা তাদের দেবে যেতে থাকা বাড়িটি দেখতে যান। সেখানে তারা খাবার রান্না করেন এবং উঠানে গরুগুলোকে খেতে দেন। ইতোমধ্যেই বাড়িটি দুই ফুট দেবে গেছে। দেয়ালগুলো কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ঠেকা দিয়ে রেখেছেন তারা। পরিবারটির সদস্য নেহা সাকলানি বলেন, “প্রতিদিন ফাটলগুলো বড় হচ্ছে আর আমাদের বাড়িটি চোখের সামনে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে, এটি দেখা অত্যন্ত কষ্টের।” জোশিমঠের এ পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নকে দায়ী করেছেন। অনেক এর সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের (এনটিপিসি) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যোগ আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা এনটিপিসি প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে ঘটানো বিস্ফোরণগুলোর প্রভাব নিয়ে গত মাসে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনবার চিঠি দিয়েছেন। এ ধরনের একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ওইসব বিস্ফোরণের কারণে ঘরবাড়ি ও রাস্তায় ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে। কিন্তু এনটিপিসি তাদের প্রকল্প ও জোশিমঠের পরিস্থিতির মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এনটিপিসির সুড়ঙ্গ শহরটির নিচে দিয়ে যায়নি এবং এখন সেখানো কোনো বিস্ফোরণের কাজও করা হচ্ছে না।