May 29, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, March 31st, 2022, 1:11 pm

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, শঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও শিক্ষকদের অফিস রুম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ১৯৩৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৮ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮শ। এটি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা কেন্দ্র। বিদ্যালয়টিতে ৬০ ও ৮০ এর দশকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দুটি ভবন নির্মাণ হয়। কিন্তু গত দুই বছর ভবন দুটিসহ দুটি টিনশেডের আধাপাকা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদনও করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থী মনি, জুঁইও মনিকা জানায়, আমাদের ক্লাসরুমের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝে মাঝে প্লাস্টারে গুঁড়া এসে আমাদের গায়ে মাথায় পড়ে। আমরা সব সময় ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি।

সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী ও আকতারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করাতে গিয়ে আমাদেরকে ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। এছাড়া শিক্ষকদের বসার রুমটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা মাঝে মাঝে বাইরে গিয়ে বসি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাবেদ আলী খন্দকার জানান, আমাদের এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর শ্রেণি কক্ষের সংকট, শিক্ষকদের বসার জায়গা সংকট, প্রধান শিক্ষকের রুমের সংকট রয়েছে। ১৯৩৪ সালে নির্মিত ভবনগুলো পুরাতন জরাজীর্ণ। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে আমরা পাঠদান চালাচ্ছি।

তিনি যত দ্রুত সম্ভব এখানে নতুন ভবন তৈরি করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস বলেন, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য একটি আবেদন আমরা পেয়েছি। আবেদনটি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন বলে তিনি জানান।

—ইউএনবি