December 2, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, October 4th, 2021, 12:01 pm

ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফাঁসিয়াখালী-লামা-আলীকদম সড়ক

ফাইল ছবি

জেলা প্রতিনিধি:

ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বান্দরবানের ফাঁসিয়াখালী-লামা-আলীকদম সড়ক। চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহা সড়কের চকরিয়া হাঁসের দিঘী থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফাঁসিয়াখালী-লামা-আলীকদম সড়ক। দেশের অপরাপর স্থানের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পার্বত্য লামা ও আলীকদম উপজেলার জনসাধারণ এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকে।
পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সর্পিল গতিতে এঁকে-বেঁকে তৈরি সড়কটি ক্রমশ  ঝুঁকিপূর্ণ  হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এ সড়কে আসা নতুন চালকদের জন্য রয়েছে সড়কের বাঁকে বাঁকে মৃত্যু ফাঁদ। মুহুর্তের অসর্তকতায় কয়েকশত ফুট গভীর পাহাড়ী খাদে পড়ে  জান-মাল বিপন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালিন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সড়কটি উদ্বোধন করেন। ১৯৯০ সালের দিকে সেনাবাহিনী সড়কটি বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট হস্তান্তর করেন। তৎসময়কার তুলনায় বর্তমানে এ সড়কে যান চালাচল বেড়েছে বহুগুণ। সড়কটির রক্ষনা বেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের বাস্তবমুখি পরিকল্পনার অভাবে সড়কটি ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিবছরই সড়কটি কম বেশি মেরামত হলেও অভিযোগ রয়েছে বাস্তবমুখি পরিকল্পনা ও প্রাক্কলন তৈরির অভাবে এসকল মেরামত টেকসই হচ্ছেনা।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে সড়কের হাঁসের দিঘী থেকে লামা পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার এলাকায় ২০ টির অধিক ভাঙন কবলিত এলাকা দেখা গেছে। এছাড়া অসংখ্য স্থানে রয়েছে ঝঁকিপূর্ণ বাঁক। ইতিমধ্যে এসকল ভাঙন কবলিত স্থানে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে সতর্কতামুলক সাইবোর্ড লাগানো হয়েছে।

এক বেসরকারি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত তিন বছরে সড়কের ভাঙন কবলিত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ  বাঁকে  ছোট-বড় দেড় শতাধিক দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এসকল দূর্ঘটনায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত এবং কয়েকশত যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। সব শেষে গত কয়েকদিন পূর্বে সড়কের পশ্চিম লাইনঝিরি এলাকায় পাহাড়ী ঢালু পথে বালু বোঝাই ট্রাক একটি মোটর সাইকেল ও মাহেন্দ্রকে চাপা দিলে একই পরিবারের দুই নারীসহ তিন জন নিহত এবং এক শিশুসহ ৪ জন আহত হয়।

জানা গেছে, ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের মধ্যে হাঁসের দিঘী থেকে লামা অংশের ২৩ কিলোমিটারের মধ্যেই বেশি দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। সড়কের এ অংশের পশ্চিম লাইনঝিরি, মাদানী নগর , মিরিঞ্জা,  নয় মাইল, বদুঝরি, ইয়াছা মোড়, ছয় মাইলের মাথা এসকল এলাকায় রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। বাঁক শেষে কতটুকু পাহাড়ী ঢালু রাস্তা হঠাৎ করে সে বিষয়ে আন্দাজ করতে পারেনা চালকরা। যার ফলে পাহাড়ী ঢালুতে সড়কের বাঁক গুলো সড়কের নতুন চালকদের জন্য এক রকম মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

লামা-চকরিয়া সড়কের পরিবহন (জীপ) মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, বেশির ভাগ সময় ঝুকিপূর্ণ বাঁকের পরে পাহাড়ী ঢালুর বিষয়টি নতুন চালকরা আন্দাজ করতে না পেরে দূর্ঘটনায় পড়েন। তিনি ঝুৃকিপূর্ণ বাঁক গুলো কেটে সড়ক প্রশস্থ করে দেয়ার দাবী জানান। বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী পুনেন্দু বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, সড়ক প্রশস্ত করনের বিষয়ের একটি প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে যে সকল ঝুকিপূর্ণ বাঁকে প্রায়ইসই দূর্ঘটনা ঘটে সে সব স্থানে সড়কের পাশে মাটি দিয়ে উ”ু করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

লামা ও আলীকদম এবং পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের জনসাধারনের দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক পথটি চালক ও যাত্রিসাধারনের জন্য নিরাপদ করতে , সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো প্রশস্ত করণ এবং ভাঙন কবলিত স্থান গুলো বাস্তবমুখি প্ররিকল্পনা ও প্রাক্কলন তৈরির ভিত্তিতে মেরামত করা জরুরী হয়ে পড়েছে।