November 27, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, August 2nd, 2021, 7:39 pm

টিকা কার্যক্রমে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ থেকেই পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবেই গাদাগাদি করে করোনা টেস্ট করার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড়। ছবিটি সোমবার মিটফোড হাসপাতাল থেকে তোলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা মহামারীর ঊর্ধ্বগতিতেও দেশে টিকা কার্যক্রমে আশানুরূপ গতি নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় অতি ধীর গতিতে চলছে টিকার কার্যক্রম। ফলে বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ থেকেই টিকা কার্যক্রম পিছিয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি মাসে কমপক্ষে এক কোটি করে মানুষকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ টিকার কার্যকারিতা এক বছর। আর সেটা সম্ভব হলে এক বছরে সবাইকে টিকা দেয়া যাবে। কিন্তু প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হলে অনন্তকাল ধরে টিকা দিতে হবে। এমন অবস্থায় কমপক্ষে প্রতি দিন ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চীন থেকে ২৯ জুলাই সিনোফার্মের ৩০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। ২ জুলাই এসেছে ১০ লাখ ডোজ, ৩ জুলাই ১০ লাখ ডোজ, ১৭ জুলাই ৪০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। তাছাড়াও চীন তিন দফায় ২৪ লাখ জোজ টিকা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপহার হিসেবে টিকা দিয়েছে। বৈশ্বিক টিকা জোটের কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় জাপান অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। অক্সফোডের আরো ১৩ লাখ ডোজ করোনা টিকা আসবে। তাছাড়াও ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট থেকে ক্রয় ও উপহার হিসেবে এসেছে এক কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা। কিন্তু ওই অনুযায়ী টিকা কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবেই গাদাগাদি করে করোনা টেস্ট করার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড়। ছবিটি সোমবার মিটফোড হাসপাতাল থেকে তোলা।

সূত্র জানায়, সরকার বিগত ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রথম ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য চুক্তি করে। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দেশে প্রথম ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসে। ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জনকে পরীক্ষামূলকভাবে ওই টিকা প্রয়োগ করা হয়। ওই দিনই টিকা নিতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের জন্য ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘সুরক্ষা’ চালু করা হয়। সেখানে নিবন্ধিতদের টিকা প্রয়োগ শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দফা টিকাদান কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারিতে থাকা মানুষরা এবং সাধারণ মানুষের বয়স সীমা ৫৫ বছরের বেশি করা হয়। পরবর্তীতে ওই বয়সসীমা ৪৫ বছর করা হয়। তারপর সেটা ৪০ বছর, আবার ৩৫ বছর পরবর্তীতে ২৫ বছর করা হয়। ঘোষণা দেয়া হয় আগামী ৭ আগস্ট থেকে ১৮ বছর বয়সীরা টিকা নিতে পারবে। একই সঙ্গে জানানো হয়, নিবন্ধন ছাড়াও শুধু আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে এলেও টিকা দেয়া হবে। গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেয়ার জন্য তৃর্ণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। সেজন্য দেশে বিদ্যমান সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূূচি (ইপিআই) করোনা টিকার ক্ষেত্রে কার্যকর করা হবে। গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্য অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোকে টিকা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরাও টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেবে। কিন্ত যার জন্য এতোকিছু ওই টিকা কার্যক্রমেই ধীর গতি।
সূত্র জানায়, ভারতের সেরামের টিকার চালান বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় টিকা নিয়ে নিদারুণ সঙ্কটে পড়তে হয়েছে। টিকা সঙ্কটের কারণে টিকা কার্যক্রম ও টিকার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে চীন টিকা দিতে রাজি হলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপহারের টিকা পাঠালে নতুন করে গত ৭ জুলাই থেকে দেশে টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়। কিন্তু ৭ জুলাই যারা নিবন্ধন করেছে তার অর্ধেক মানুষকে এখনো টিকার প্রদানের জন্য ম্যাসেজ পাঠানো হয়নি। অথচ চীন, আমেরিকাসহ প্রভাবশালী দেশগুলো ব্যাপকভাবে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। নতুন করে অর্থনীতি গতিশীল করতে সবকিছু খুলে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও সব সময় টিকা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশে টিকা নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হলেও টিকা কার্যক্রমে আশানুরূপ গতি নেই। বরং টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য দফায় দফায় বয়স নির্ধারণ করা হচ্ছে। আর প্রয়োজনের তুলনায় অতি ধীর গতিতে চলছে টিকার কার্যক্রম। ফলে টিকা কার্যক্রম বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
এদিকে টিকা দেয়ার কার্যক্রম জোরদার না হওয়া প্রসঙ্গে করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়কারী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, প্রতি সপ্তাহে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লকডাউন শেষে হলেই আশা করা যায় আগামী ৭ আগস্ট থেকে ওই পরিকল্পনা অনুসারে বিশেষ ক্যাম্পেইন আকারে মাঠ পর্যায়ে টিকা দেয়া শুরু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে যখন যে এলাকায় শিডিউল থাকবে ওই এলাকার ১৮ ঊর্ধ্ব সবাইকে টিকা দেয়া শেষ করে অন্য এলাকায় যাওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ওই এলাকায় আগে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রে এলেই টিকা দেয়া হবে। আর টিকাদান কর্মীরা শিথিল পন্থায় নিবন্ধনের কাজটি সেরে নেবেন।
অন্যদিকে টিকার বয়সসীমা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, সরকার সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সব প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় টিকা নিতে প্রয়োজনীয় বয়সসীমাও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে।