November 28, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, October 25th, 2021, 1:16 pm

টোকেন-স্টিকার দিয়ে সড়কে চলছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা

ফেনীতে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার টোকেন-স্টিকার দিয়ে হাজারের অধিক অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা জেলার বিভিন্ন সড়কে চলছে। এসব অটোরিকশার নম্বর প্লেট, রোড পার্মিট কিংবা বৈধ কোনো কাজগপত্র না থাকলেও টোকেন দেখালে তাদের পুলিশ ছেড়ে দেয়।

চালকরা একটি টোকেন বা স্টিকার দিয়ে সড়ক ব্যবহার করছেন। পুলিশকে দেয়ার কথা বলে শ্রমিক সংগঠন প্রতি মাসে টোকেন প্রতি তাদের কাছ থেকে আদায় করছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা ২৪ হাজার অটোরিকশার ৯০ ভাগের নিবন্ধন কিংবা বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে নিবন্ধন করা ৯ হাজার ২০০ সিএনজি অটোরিকশা থাকলেও ছয় হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা নবায়ন করা হয়নি। মাত্র দুই হাজার ৬০০ সিএনজি বৈধভাবে চলছে। এছাড়া নিবন্ধিত চালক আছেন মাত্র এক হাজার ২৫৫ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক জানান, নবায়ন বা নতুন লাইসেন্স করতে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তার উপর নানা হয়রানি। অথচ মাসে ৫০০ টাকা হারে বছরে ছয় হাজার টাকার স্টিকার খরচ দিয়ে ‘টেনশন ছাড়া’ চলছেন তিনি।

নম্বরবিহীন কয়েকটি অটোরিকশা থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলে চালকরা গাড়ির সামনের গ্লাসে লাগানো স্টিকার দেখান বা একটি টোকেন ধরিয়ে দেন। অনেক চালক তাদের হাতে চাবির রিং দেখিয়ে বলেন, এটা দিয়ে পুরো নোয়াখালী অঞ্চল বিনা বাধায় চলাচল করা যায়। তবে রিংয়ের দাম স্টিকার থেকে দিগুণ।

এসব টোকেনে লেখা পুলিশ ডিউটির জন্য! এর অর্থ জানতে চাইলে চালকরা জানান, এই টোকেন সড়কে চলাচলের বৈধতা। টোকেন থাকলে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিবন্ধন, ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেসবিহীন অবৈধ রুট পারমিটের বিরুদ্ধে বিআরটিএ এবং ট্রাফিক পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান অবৈধ অটোরিকশা চালকরা। যেসব অটোরিকশাচালক অবৈধ টোকেন নিতে বিলম্ব করেন বা নিতে অস্বীকার করেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা রেকার লাগিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

জানা গেছে, মোটরযান আইন অনুযায়ী বিআরটিএ’র নিবন্ধন ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচলের সুযোগ না থাকলেও শুধু শহর ও যানবাহন পরিদর্শক-ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন নামের টোকেনে ফেনী শহরে অনায়াসে চলছে এসব গাড়ি। রয়েছে ‘প্রাইভেট’ ও ‘নিলাম’সহ বিভিন্ন প্রতীকী সংকেত লেখা অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

জেলা পুলিশ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর আগস্ট পর্যন্ত ফেনীতে সড়ক পরিবহন আইনে দুই হাজার ৩৩৪টি মামলা হযেছে। এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে নানা অপরাধে ৮৯১টি মামলা হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার অপরাধে মামলা হয়েছে মাত্র ৫০টি।

চালকরা রাস্তায় ব্যবহারে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে মাসে মাসে টোকেন সংগ্রহ করেন। শ্রমিক নেতারাও স্বীকার করেন টোকেনের বিনিময়ে টাকা নেয়ার কথা।

ফেনী জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হানিফ বলেন, ‘যে সব সিএনজির (চালিত অটোরিকশা) লাইসেন্স, ফিটনেস ও ড্রাইভারের কাগজপত্র নেই, তারা থানা পুলিশ, প্রশাসন থেকে বাঁচতে কিছু টাকা দিয়ে স্টিকার নিয়ে যায়।’

টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পেছনে কিছু ব্যয় আছে। কেউ মারা গেলে বা দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের সমিতি থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়।’

ফেনী জেলা ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আহম্মদ নুর বলেন, ‘যাদের লাইসেন্স পাওয়া যায় না তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ট্রাফিক পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মোটর ভিকেল আইন ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত আছে।’ তবে টাকার বিনিময়ে স্টিকার প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

ফেনী জেলা বিআরটিএ যানবাহন পরিদর্শক জমির হোসেন বলেন, ‘ফেনীতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার কোটা পূর্ণ থাকায় গত দুই বছর নতুন করে নিবন্ধন দিচ্ছে না সরকার।’

ফেনী জেলা বিআরটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী পার্কন চৌধুরী বলেন, ‘সিএনজি মালিকেরা নিজেদের সুবিধার জন্য অবৈধভাবে টাকা দিয়ে রাস্তায় চালাচ্ছে। তবে আমরা প্রতি মাসেই অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিএনজির জরিমানা ও আটক করছি। আমরা চাই প্রতিটি সিএনজি নিবন্ধনের আওতায় আসুক।’

এদিকে পুলিশের কোনো সদস্য টাকা নেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার নুরনবী। সেই সঙ্গে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এর ঘোষণাও দেন তিনি।

ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান বলেন, ‘জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা একটা সভা ডেকে নিবন্ধনের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেব। তবে নিবন্ধনবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

—ইউএনবি