May 29, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, April 18th, 2022, 8:30 pm

দাগনভূঞায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গার মাটি লুটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী:
দাগনভূঞা উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ সহ-সভাপতি বেলায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির মাটি জোরপূর্বক লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের ছোট ফেনী নদীর পশ্চিমাংশে জেগে ওঠা চরের সরকারি খাস জমির এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন আহমেদ, ফোরকান উদ্দীন আহমেদ, জামিল উদ্দীন আহমেদ ও নাজিম উদ্দীন আহমেদের মালিকানাধীন প্রায় ৫০ শতক জমির জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা সোনাগাজী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। এর আগে দাগনভূঞা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবুল বাশার ঘটনাস্থল পরিমাপ করে জানতে পারেন ভূমিটি সোনাগাজীর চরমজলিশপূর মৌজার অধীন।
কুঠিরহাট আদায় শিবিরের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, স্বপন চেয়ারম্যান সরকারি জায়গার মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এ সংবাদ পেয়ে আমি এসিল্যান্ড স্যারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার সত্যতা পাই। তবে ওইসময় মাটি কাটার স্থানে স্কেভেটর মেশিন পাওয়া গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে মাটি কেটে নেয়ার স্থান পরিমাপ করে নিশ্চিত হই যে, ওই স্থানের কিছু ভূমি সরকারি খাস ও কিছু অংশের মালিক দাগনভ‚ঞা উপজেলার জগৎপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন আহমেদ গংরা।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিটি সোনাগাজী উপজেলার অধীন হওয়ায় ও নাসির উদ্দীন আহমেদ গংদের কেউ এলাকায় না থাকার সুবাদে ওই স্থান থেকে স্বপন চেয়ারম্যান জোরপূর্বকভাবে ৮/৯ ফুট গভীর করে রাতের আঁধারে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাটি লুট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন বলেন, উক্ত জমিটি তার মালিকীয়।

সোনাগাজী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) লিখন বনিক জানান, খবরটি পেতে বিলম্ব হওয়াতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তারপরও খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি রাতে ঘটনাস্থলে যাই। ওই সময় মাটি কাটা অবস্থায় কাউকে পাওয়া যায়নি শুধু স্কেভটরটি পড়ে আছে। এছাড়াও ওই স্থানটি সোনাগাজী হলেও মাটি কেটে যে রুটে নিয়ে যায় সে রুটটি দাগনভূঞা উপজেলার অধীন। তারপরও যদি শুরুতেই সংবাদ পাওয়া গেলে দাগনভূঞা উপজেলা প্রশাসন ও সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ফেনীর উপ-পরিচালক ড. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।