November 26, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, October 25th, 2022, 12:05 pm

দাগনভূঞায় বিধবার রহস্যজনক মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী (দাগনভূঞা) :

ফেনীর দাগনভূঞায় এক বিধবার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ছোট মালিপুর গ্রামের আকু সর্দার বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে নিহতের ২ মেয়ে ও নাতনী মারাত্মকভাবে আহত হয়।
পুুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দিবাগত রাতে কোন এক রহস্যজনক কারনে ফাতেমা আক্তার (৫৫) নামের বিধবা নিহত হয়। এবং নিহতের মেয়ে রোকসানা আক্তার (৪০), খালেদা আক্তার (২৩) ও নাতনী ফাহমদিা সুলতানা (১৭) গুরুতর আহত হয়। তাদের প্রত্যেকের শরীরে মারাত্মক জখম রয়েছে। সকালে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং আহতদের দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। নিহত ফাতেমা ওই এলাকার মৃত ফজলুল হকের স্ত্রী। এঘটানয় ওই এলাকায় বিভিন্ন রহস্যজনক কথা শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, এ পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জ্বীনের কু-দৃষ্টি রয়েছে। ঘটনার দিন জ্বীন তাদের প্রত্যেককে মারধর করে এবং জ্বীনের মারধরে ফাতেমা নিহত হয়। আবার অনেকে বলেন ওই পরিবারে কোন একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার অসুস্থতাকে জ্বীনের আছর বলে কোন এক খোনকারের শরণাপন্ন হয় তারা। সোমবার ওই বাড়ীতে ওই খোনকার আসেন এবং তাদের ঝাঁড়-ফুঁক ও পানি পড়া দেন। এগুলো সেবনের পর রাতে তাদের মা ও মেয়েদের মধ্যে কি এমন ঘটনা ঘটে তা বোধঘম্য নই। সকালে আমরা শুনতে পাই যে ফাতেমা মারা গেছে এবং তার ২ মেয়ে ও নাতনী মারত্মকভাবে আহত অবস্থায় রয়েছেন। সমাজের কেউ তাদের কাছে যেতে চাইলে তারা আক্রমনাত্মক আচরণ করতে থাকে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং আহতদের হসপিটালে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির জানান, কি কারনে ঘটনাটি ঘটেছে তা জানা নেই। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানতে পারি ওই পরিবারের সবাইকে জ্বীন আছর করেছে। এবং জ্বীনের আছরের প্রভাবে তারা একে অন্যকে মারধর করে। মারধরের কারনে পরিাবারের সবাই মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং ফাতেমা আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক যশমন্ত মজুমদার জানান, মাথায় আঘাতজনিতকারনে ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানার ওসি মো. হাসান ইমাম ঘটানর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এবং আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ও চট্টগ্রাম হসপিটালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। কি কারনে ঘটনাটি ঘটেছে তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। নিহতের পরিাবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দেয়া হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।