December 6, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, January 21st, 2022, 7:41 pm

দার্জিলিং জাতের কমলা চাষে সফল ঠাকুরগাঁওয়ের জুয়েল

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বীরহলি গ্রামের আবু জাহিদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল, কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে তিন বিঘা জমির ওপরে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের কমলার বাগান করেছেন। বাগানটিতে রয়েছে আড়াইশ গাছ। সপ্তমবারের মতো তার বাগানের গাছ থেকে কমলা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ১০ বছর আগে চারা গুলো জেলা হর্টিকালচার থেকে প্রতি চারা ৫টাকা করে ক্রয় করেছিলেন তিনি। যদিও তার এই বাগান করার ইচ্ছা ছিল না। শুধুমাত্র হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তাদের তাগিদে তিনি এই চারাগুলো কিনেছিলেন। এখন সেই আড়াইশ গাছ থেকে বাৎসরিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তা জুয়েল।

বাগানের গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে বড় বড় কমলা। কমলার ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। এ যেন এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। আর এই দৃশ্য দেখতে স্থানীয়দের মতো প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ আসছেন এই বাগানে।

বাগানেই বিক্রি হচ্ছে এসব কমলা। তাছাড়া এখানকার কমলা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরবরাহ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এই কমলার বাগানটি হওয়ার ফলে যেমন পুষ্টি ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

ইউটিউবে বাগানের ভিডিও দেখে শরিয়তপুর থেকে আগত খন্দকার গোলাম কাইয়ুম সোহেল নামে এক দর্শনার্থী জানান, ‘দার্জিলিং এর মতো এত সুন্দর বড় বড় কমলা হয়েছে এখানে তা দেখে আমি অভিভূত, মুগ্ধ ও আনন্দিত।’

দিনাজপুর থেকে আগত দর্শনার্থী রুলেখা আক্তার বলেন, ‘আমি সচরাচর কমলা খেয়েছি কিন্তু কমলার বাগান আগে কখনোই দেখিনি। তাই এখানে দেখতে এলাম। এই কমলার বাগানটি এত সুন্দর, এটি অবাক করার মতো একটি বাগান।’

ছয় বছর ধরে বাগানে কর্মরত শ্রমিক কার্তিক জানান, ‘এখানে কাজ করে দিনে তার মজুরি পরে চারশ’ টাকার মতো, এতে সংসার সুন্দর মতো চলে।’

উদ্যোক্তা জুয়েল জানান, ‘আড়াইশ’ গাছে ২৫০ থেকে ৩শ’ মন কমলা হতে পারে। তিন বিঘার এই বাগানে তার চার লাখ টাকা খরচ হয়।’ অন্য আর কেউ যদি এমন বাগান করতে চায়, তাহলে তার পক্ষ থেকে কমলা চাষ বিষয়ে সবধরনের সহযোগিতা করবেন বলেও জানান সফল এই উদ্যোক্তা।

ভারতীয় দার্জিলিং জাতের কমলা হওয়ায় এ জাতের কমলা গাছ ৫০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। এটি একটি অর্থকরি ফসল, যা খুব সহজে ও স্বল্প খরচে উৎপাদন করা যায় বলে জানান বাগান মালিক জুয়েল।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রমতে, পীরগঞ্জে জুয়েলের বাগান ছাড়াও জেলায় চার দশমিক আট হেক্টর জমিতে কমলা চাষ করা হচ্ছে। এছাড়াও মালটার বাগান আছে ১২৩ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোছাম্মাৎ শামীমা নাজনীন জানান,এই বাগানের কমলা খুবই সুস্বাদু ও ভালো। তাই এই বাগানের কমলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে এবং সকল জায়গায় আমাদের দেশে উৎপাদিত কমলা হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। কৃষিবিভাগ থেকে লেবু জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এছাড়াও জুয়েলের এই উদ্যোগ এলাকবাসীকেও কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ করছে বলে জানান তিনি।

—-ইউএনবি