June 13, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, October 18th, 2023, 9:56 pm

দীর্ঘদিনে চালু হচ্ছে না বন্ধ থাকা কৈলাসটিলা এলপিজি প্লান্ট

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কৈলাসটিলা এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) প্লান্টের উৎপাদন দীর্ঘদিনেও চালু হচ্ছে না। তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্লান্টের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিগত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ থাকা প্লান্টটি কবে পুনরায় চালু হবে তা আরপিজিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বলতে পারছেন না। আরপিজিসিএল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আরপিজিসিএল সিলেটের গোলাপগঞ্জের দাড়িপাতনে কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে উত্তোলিত মূল্যবান এনজিএল (ন্যাচারাল গ্যাস লিকুইড) কাজে লাগাতে ১৯৯৮ সালে প্লান্ট স্থাপন করে। গ্যাস খনির পাশে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরের টিকরবাড়ী এলাকায় এর অবস্থান; যেটি জ¦ালানি তেল, পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি উৎপাদনকারী কৈলাসটিলা এলপিজি প্লান্ট নামে পরিচিত। কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্দিষ্ট মানের বাইরে পেট্রল না কেনার ঘোষণা দিলে বিপাকে পড়ে আরপিজিসিএল। কৈলাসটিলা এলপিজি প্লান্টের উৎপাদন ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ করে দেয়।

অথচ প্লান্টটির পেট্রল উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় এক লাখ লিটার। এ ছাড়া দিনে ২০-২৫ হাজার লিটার ডিজেল ও ১৫-১৭ টন এলপিজি উৎপাদন করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। আর এসব জ¦ালানি থেকে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ছিল ৪০-৪৫ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, আরপিজিসিএলের উৎপাদিত এলপিজির ওপর নির্ভর করেই এলপিজি বটলিং কারখানা স্থাপন করা হয়। আরপিজিসিএল প্লান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেটির উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। এমনকি কৈলাসটিলা এলপিজি প্লান্ট বন্ধ থাকায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডকে বিপুল পরিমাণ এনজিএল প্রতিদিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিতে হচ্ছে।

মূলত এনজিএল সংরক্ষণে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এটিকে সরাসরি প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টে পাঠাতে হয়, অন্যথায় পুড়িয়ে ফেলতে হয়। কৈলাসটিলা এমএসটিই গ্যাস ফিল্ড খনি থেকে উত্তোলিত ৫৭ হাজার লিটার এনজিএল প্রতিদিন সরাসরি আরপিজিসিএল প্লান্টকে দেয়া হতো। প্রতিষ্ঠানটি এতোদিন ওই এনজিএল থেকে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি উৎপাদন করেছে। বর্তমানে আরপিজিসিএল প্লান্ট বন্ধ থাকায় উত্তোলিত এনজিএল তাই পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ৬ কোটি টাকার এনজিএল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, এলপিজি বটলিং (সিলিন্ডার গ্যাস) কারখানা থেকে স্থানীয়ভাবে এলপিজি সরবরাহ করা হতো। কারখানাটি বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে আরপিজিসিএল প্লান্টটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কৈলাসটিলা এলপিজি প্লান্ট পরিদর্শন করেন বিপিসি চেয়ারম্যান। ওই সময় প্লান্টের প্রয়োজনীয়তা, স্থানীয় জীবন-জীবিকায় এটির গুরুত্ব, প্লান্ট বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি এবং খনিজ সম্পদ এনজিএল ধ্বংসের বিষয় তুলে ধরে বিশিষ্টজনরা দ্রুতত প্লান্টটি চালুর ব্যাপারে তাকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

জবাবে বিপিসির চেয়ারম্যান তখন বলেছিলেন, এ প্লান্ট বিপিসির সম্পদ। তাছাড়া ২০২২ সালের শেষের দিকে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন-১) মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী প্লান্ট পরিদর্শন করেন। এরপর চালুর উদ্যোগ কিছুটা গতি পায়। সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আরপিজিসিএলের প্লান্টটি চালুর ব্যাপারে সম্ভাবনা যাচাই হয়। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মেরামত, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের পাশাপাশি সরিয়ে নেয়া হয় মরিচা ধরা যন্ত্রাংশও। এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়েই রয়েছে প্লান্ট চালুর উদ্যোগ।

এদিকে স্থানীয়দের মতে, গোলাপগঞ্জে শিল্প-কারখানা বলতে গ্যাস ফিল্ড এবং আরপিজিসিএল প্লান্ট ও এলপিজি বটলিং কারখানা। এগুলো সরিয়ে নেয়া বা বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা চলছে। একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে রেখেছে। বার বার চালুর উদ্যোগ নিলেও রহস্যজনক কারণে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে আরপিজিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আলমগীর সরকার জানান, প্রতিষ্ঠানটি চালু করার জন্য বিশেষজ্ঞ টিম একাধিকবার পরিদর্শন করেছে। বেশকিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। বহুদিন ধরে বন্ধ থাকায় অনেক যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ টিম তাদের প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ প্লান্টটি চালু হতে পারে সে ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।