May 23, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, March 16th, 2023, 9:33 pm

দীর্ঘদিন রপ্তানি বন্ধ থাকায় সুগন্ধি চালের বাজার হারানোর শঙ্কা বাড়ছে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সুগন্ধি চালের রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর দখলে চলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজার। আর ভবিষ্যতে ওই বাজার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। দেশে সুগন্ধি চালের ঘাটতি নেই। ফলে রপ্তানির সুযোগ দিলে একদিকে যেমন বিদেশে দেশীয় সুগন্ধি চালের বাজার অক্ষুণ্ণ  থাকবে, অন্যদিকে সম্ভব হবে অসাধু রপ্তানিকারকদের অবৈধ ও নিম্নমানের চাল রপ্তানিও রোধ করা। সুগন্ধি চাল রপ্তানিকারকদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০২২ সালের জুলাইয়ে দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুগন্ধি চাল (চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা) রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। তারপর দীর্ঘ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। আর বাজার হারালে তা আবার ফিরে পাওয়ার সুযোগও কম। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সুগন্ধি চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে তো বটেই, বিদেশী ভোক্তাদের কাছেও চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চাল জনপ্রিয়। প্রায় সারা বছরই বিদেশের বাজারে ওই চালের চাহিদা থাকে। তবে রমজান মাস, ঈদুল আজহাসহ উৎসবের মৌসুমগুলোয় চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৮-২০ হাজার টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে। তার মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। সুগন্ধি চাল দেশের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকার মধ্যে পড়ে না। ফলে এ চালের উদ্ধৃতের পরিমাণও ব্যাপক। সুগন্ধি চাল রপ্তানি দেশের খাদ্য ঘাটতিতে কোনো রকম নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে না। বাসমতী চালের বাজার এখন পৃথিবীর বড় বাজারগুলোর একটি। বর্তমানে বিদেশের মাটিতে যে চিকন চালের বাজার তৈরি হয়েছে তার ভোক্তা হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ক্রমান্বয়ে বিদেশীরাও এ চালের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। যে মূল্যে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হয় তাতে এক টনের বিপরীতে তিন টন চাল আমদানি করা সম্ভব। এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসহাক হোসেন সুইট জানান, জুলাইয়ের পর চাল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর আর চালু করা হয়নি। ভারতের একটা চাল আছে, তারা যদি বাজারটা দখল করে ফেলে, তাহলে এ বাজার আর আমাদের হবে না। অন্যদিকে এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, পুনরায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।