January 21, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, January 4th, 2022, 8:08 pm

দেউলিয়া হওয়ার পথে শ্রীলঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক :

২০২২ সালে দেউলিয়া হতে পারে শ্রীলঙ্কাা। রেকর্ড মাত্রায় মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং কোষাগার শূন্য হয়ে পড়ায় এমন আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে দেশটির জন্য। গত সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক খবরে একথা জানানো হয়েছে। আর্থিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসার সরকার নেতৃত্ব দিচ্ছে। সরকারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য করোনাভাইরাসের প্রকট দায়ী। এছাড়াও পর্যটন খাতের বিপর্যয়ও এ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মারাত্মক ভূমিকা রেখেছে। গার্ডিয়ানের মতে, সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত ব্যয় ও কর কর্তনের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ কমে যাওয়া, চীনের কাছ থেকে নেওয়া বড় অঙের ঋণ এবং কয়েক দশকের মধ্যে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানো শ্রীলঙ্কাকে দেউলিয়া করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি ঋণ ও বিদেশি বন্ডের টাকা শোধ করতে সরকার যেভাবে টাকা ছাপিয়েছে তার ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, করোনা মহামারি দেখা দেওয়া পর শ্রীলঙ্কার ৫ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করতে শুরু করেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি ১১.১ শতাংশে পৌঁছেছে। দ্রব্যমূল্যের দাম এতোটা বেশি যে সচ্ছল মানুষের পক্ষে তাদের পরিবারকে ঠিক মতো ভরণপোষণ করা কঠিন থেকে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদিকে রাজাপাকসে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর দেশটির সেনাবাহিনীকে চাল ও চিনির মতো পণ্য সমগ্রী সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এতে জনগণের দুর্দশা কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কলম্বোর গাড়িচালক অনুরুদ্ধ পারানাগামা পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য ও গাড়ি কেনার ঋণ শোধ করতে আরেকটি কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘ঋণ পরিশোধ করা আমার জন্য ভীষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ, পানির বিল পরিশোধ ও খাবার কেনার পর আমার কাছে আর কোনো টাকাই থাকছে না। এখন আমার পরিবার তিন বেলার পরিবর্তে দুই বেলা খাবার খাচ্ছে। গ্রামের দোকানদাররা ১ কেজি দুধের প্যাকেট খুলে ১০০ গ্রাম করে বিক্রি করছে। কারণ অধিকাংশ মানুষের পক্ষে পুরো প্যাকেট দুধ কেনা সম্ভব নয়।’ ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার পর্যটান খাত থেকে মোট রাজস্বের ১০ শতাংশের বেশি আসে। কিন্তু বর্তমানে এই খাত থেকে রাজস্ব আয় তলানিতে ঠেকায় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অনেকটাই দায়ী। দেশটির প্রায় দুই লাখ মানুষ পর্যটন খাত ক্ষতির মধ্যে পড়ায় চাকরি হারিয়েছে। এদিকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি দিনদিন এতোটাই খারাপের দিকে যাচ্ছে যে দেশটির প্রতি চারজন তরুণ ও শিক্ষিত যুবকের মধ্যে একজন পাসপোর্ট অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন। তারা দেশ ছাড়তে চান। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ডব্লিউএ বিজেওয়ার্ডেনা বলেন, যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তাতে আর্থিক সংকট আরো গভীর হতে পারে। ফলে জনগণের জীবন জীবিকা কঠিন হয়ে পড়বে।দেশটির মন্ত্রী রমেশ পাথিরানা বলেন, চা বিনিময়ের মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে কেনা তেলের দাম শোধ করতে চায় সরকার। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে তাই প্রতি মাসে ইরানকে ৫০ লাখ ডলারের চা পাঠানো হবে। বিরোধীদলীয় এমপি ও হার্শা ডি সিলভা পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতি থাকবে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশি ঋণ দাঁড়াবে ৪৮০ কোটি ডলার। এর ফলে দেশ পুরোপুরি দেউলিয়া হয়ে যাবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।