July 25, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, December 26th, 2023, 7:42 pm

দেড় বছর পর নির্দোষ প্রমাণিত!

অনলাইন ডেস্ক :

‘শেষ গল্পটা তুমিই’-এর একটি দৃশ্যে খাঁচাবন্দি টিয়া পাখি দেখানোয় টিভি নাটকটির পরিচালক অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে উচ্চ আদালতে মামলা করেছিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। গত বছর ২৫ জুলাই সংবাদমাধ্যমে ‘বন্য প্রাণী আইন ২০১২ ভাঙার অভিযোগ-৪ লাখ টাকার নাটকের পরিচালকের বিরুদ্ধে ১৫ কোটির মামলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনটি সে সময় বেশ সাড়া ফেলেছিল। অবশেষে এক বছর সাত মাস পর অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন অনন্য ইমন। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ে আদালতের রায়ের অনুলিপি নিয়ে হাজির হন অনন্য ইমন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তারুজ্জান স্বাক্ষরিত আদেশনামায় বলা হয়, “অত্র মামলার আসামি অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ‘বন্য প্রাণী [সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা] আইন, ২০১২-এর ৩৮[২], ৪১ এবং ৪৬ ধারায় গঠিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে ওই অভিযোগের দায় থেকে নির্দোষ গণ্যে খালাস দেওয়া হলো।” এ বছরের ১৫ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করা হয়। গত বছর ভালোবাসা দিবসে বাংলাভিশনে প্রচারিত হয়েছিল নাটক ‘শেষ গল্পটা তুমিই’। সুকন্যা দত্তের রচনা এবং অনন্য ইমনের চিত্রনাট্য-পরিচালনায় নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, তাসনিয়া ফারিণ, মিলি মুন্সি, পাপিয়া, আরেফিন, জারা ইসলাম প্রমুখ।

পরের ২৪ মার্চ থেকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে নাটকটি। প্রেমের গল্পের এই নাটকের ১৫ মিনিট আট সেকেন্ড থেকে শুরু হওয়া ৫৩ সেকেন্ডের একটি দৃশ্য নিয়েই যত আপত্তি তুলেছিল বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। সেখানে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে মা ও বোনের সঙ্গে কথা বলছে নাটকের নায়ক, কথা বলতে বলতেই খাঁচাবন্দি একটি টিয়া পাখিকে খাবার দিচ্ছে। মামলার নথিতে বলা হয়, “বন্য প্রাণীকে খাঁচাবন্দি করা, বেচাকেনা করা, প্রদর্শন করা বা এ জাতীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা, প্ররোচনা প্রদান ইত্যাদি ‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ‘সিডি চয়েস ড্রামা’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত নাটকটিতে খাঁচাবন্দি বন্য প্রাণী প্রদর্শন প্রচলিত আইনে অপরাধ এবং অন্যদেরও সেই অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে।”

অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। বন্য প্রাণী লালন-পালন প্রচারণার মাধ্যমে পরিবেশের আনুমানিক ক্ষতি ১০ কোটি টাকা, জুনোটিক ডিজিজজনিত (একটি সংক্রামক রোগ, যা প্রাণী থেকে মানুষ বা প্রাণীতে সংক্রমিত হয়) ক্ষতি ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। নাটকের দৃশ্যটি এবং মামলার বিষয়ে পরিচালক অনন্য ইমন তখন বলেছিলেন, ‘নাটকের চিত্রনাট্যে এমন কোনো দৃশ্য ছিল না। যে বাড়িতে শুটিং করেছি সেখানেই ছিল টিয়া পাখিটি, দৃশ্যায়নের সময় মনে হলো, নায়ক কোনো একটা কাজ করতে করতে মা ও বোনের সঙ্গে কথা বললে দৃশ্যটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে দর্শকের কাছে।

তা ছাড়া এখানে পাখিকে আদর করে খাওয়ানো হচ্ছে, এটা নিয়ে আইনি ঝামেলায় পড়ে যাব তা মাথায়ই আসেনি। একই সঙ্গে দৃশ্যটিতে নায়কের মা গাছে পানি দিচ্ছিল, পাখি বন্দি দেখানোয় যদি কপালে তিরস্কার জোটে, তবে গাছে পানি দিতে সবাইকে উৎসাহিত করার জন্য আমার পুরস্কার পাওয়া উচিত। আমার নাটকের বাজেট মাত্র চার লাখ টাকা, ক্ষতিপূরণের দাবি ১৫ কোটি টাকা। পারিবারিক সব সম্পত্তিসহ আমাকে বিক্রি করলেও এত টাকা পাওয়া যাবে না। সম্প্রতি প্রচারিত আরো কিছু নাটক-সিনেমায় খাঁচাবন্দি পাখি আমি দেখেছি, সব বাদ রেখে আমাকেই কেন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, সেটাও বুঝতে পারছি না।’ তবে এখন এই নাট্য পরিচালকের উপলব্ধি ভিন্ন।

অনন্য ইমন বলেন, ‘আমি এখনো নাটক নির্মাণ করছি, সামনেও করব। তবে বিশেষভাবে লক্ষ রাখব, কোনোভাবেই যেন দেশীয় বন্য প্রাণী আমার ফ্রেমে না আসে। অনেকেই আমাকে একটি কমন প্রশ্ন করেন, ঢাকার কাঁটাবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক পশু-পাখির দোকানে খাঁচাবন্দি পশু-পাখি থাকে, তাহলে আমাকে কেন আসামি করা হলো। অনেকেই হয়তো জানেন না, সেগুলোর কোনোটিই দেশীয় বন্য প্রাণী নয়।’ গত দেড় বছরে আদালতে বেশ কয়েকবারই যেতে হয়েছে ইমনকে। সময়ের সঙ্গে ব্যয় হয়েছে লক্ষাধিক টাকাও। তবে এর একটি ভালো দিকও আছে, সেটা ভেবে তিনি খুশি। ইমনের ভাষায়, ‘আমাকে বন্য প্রাণী অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই বলেছেন, আপনাকে সাজা দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আপনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় এখন অনেকেই সচেতন হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা অনেক কমে গেছে।’