September 25, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, January 11th, 2022, 8:12 pm

দেশের মহাসড়কগুলো নিরাপদ রাখতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক :

দেশের মহাসড় নিরাপদ রাখতে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আড়াইশ’ কিলোমিটারজুড়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের কাজ। মূলত মহাসড়কে অপরাধ প্রতিরোধ, নিরাপত্তা নির্বিঘœ ও দুর্ঘটনা রোধে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মহাসড়কে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়াতে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ওসব জোনের ২৫০ কিলোমিটারজুড়ে ১ হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। তারমধ্যে লংভিশন পিটিজেড ডোম ক্যামেরা ১৬টি, পিটিজেড ডোম ক্যামেরা ৪৭১টি, বুলেট ক্যামেরা ৯২৪টি ও চেকপয়েন্ট ক্যামেরা রয়েছে ১৬টি। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনাসহ সবকটি মহাসড়কে চলতি বছরের মধ্যেই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করার কথা রয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যান চলাচল নির্বিঘœ করার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও অপরাধ প্রতিরোধ করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনে ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনে জমা দেয়া হয়েছে ১১৪টি লাইটপোলের প্রতিবেদন। পাশাপাশি ডাটা সংযোগের জন্য বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর মেঘনাঘাট হাইওয়ে কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার মনিটরিং ও ডাটা সেন্টার স্থাপন করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হওয়ার পর অটোমেটিক নাম্বার প্লেট শনাক্ত করা, যানবাহনের গতিপথ শনাক্ত, হাইস্পিড ডিটেকশন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করা যানবাহন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ক্যামেরাগুলো স্থাপন হলে অন্ধকার ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায়ও স্পষ্ট ছবি ক্যাপচার ও রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের নম্বর প্লেটের ছবি ক্যাপচার ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোথাও কোন ঝামেলা বা অপরাধের কারণে লোকসমাগম বেশি হলে মনিটরিং সেলে আগাম সংকেত বার্তা চলে যাবে। ওসব ক্যামেরা যানজট নিরসনেও কার্যকর ভুমিকা রাখবে। সিসিটিভির ফুটেজ প্রায় এক মাস ধরে সংরক্ষণ করা যাবে এবং ভবিষ্যতে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনে সহায়ক হবে। তাছাড়া মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের হাইস্পিড মাপতে যন্ত্রাংশ বসানো হবে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওই এলাকা ঘিরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি প্রতিদিনই বন্দর থেকে কাভার্ডভ্যানে করে ঢাকায় মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার একইভাবে ঢাকা থেকেও বিভিন্ন মালামাল চট্টগ্রামে যাচ্ছে। চাঁদাবাজি ও সড়কে কাভার্ডভ্যান থেকে মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে পুরোপুরি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাছাড়া মহাসড়কে কিভাবে দুর্ঘটনা হয়েছে, কে সড়কে গাড়ি নামালো, সবই পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। পুলিশ সিসি ক্যামেরায় মহাসড়কে কে কি করছে দেখতে পাবে। কারণ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টস থেকে কাভার্ডভ্যানে মালামাল চট্টগ্রাম বন্দরে নেয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মল্লিক ফখরুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও অপরাধ, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দেশের সবকটি মহাসড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসানো হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। ইতোমধ্যে একটি কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ক্যামেরাও শিপমেন্ট হয়েছে। বেশ কিছু স্থানে ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে। আশা করা যায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।