May 28, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, April 7th, 2023, 9:00 pm

ধুনটের ইউএনও’র বাসায় ২২১ বস্তা পচা ত্রাণ নিয়ে তোলপাড়, তদন্ত কমিটি

বগুড়ার ধুনটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সরকারি বাসভবন থেকে বিতরণের জন্য দেওয়া ২২১ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এসব পচা ত্রাণসামগ্রী ২০২১ সালে ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ হিসেবে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার কার্যালয় ছাড়ার আগে ইউএনও এগুলোকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই খোকনের কাছে হস্তান্তর করেন।

গত ৭ মার্চ ওই ইউএনওকে বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বদলি করা হয় বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ধুনট উপজেলায় তার শেষ কর্ম দিবস ছিল। ওইদিন বিকাল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসভবন থেকে ২২১ বস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার অযোগ্য ত্রান সামগ্রী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের সরকারি বাসভবনে জমা দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে সংবাদকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভিড় জমে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাল, ডাল, লবণ, তেল, চিড়া, নুডলস, চিনি, হলুদ, মরিচ ও ধনিয়ার গুঁড়া মসলার সাড়ে ১৫ কেজি ওজনের বস্তার গাঁয়ে লেখা‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার, ত্রাণসামগ্রী হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০২১-২০২২ অর্থ বছর ও ০৭.০৭.২০২১ তারিখ।’

প্রায় দুই বছর আগের এই ত্রাণসামগ্রী মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে খাবার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন বলেন, ‘ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত শেষ কর্মদিবসে ২২১ বস্তা ত্রাণসামগ্রী শ্রমিক দিয়ে তার সরকারি বাসায় রেখেছেন এবং ২০২২ সালের ২৫ জুলাই তারিখের তৎকালিন জেলাপ্রশাসক জিয়াউল হক সাক্ষরিত একটি বরাদ্দ পত্র দিয়েছেন। রেখে দেওয়া ত্রাণসামগ্রীগুলো অনেকটাই খাবার অযোগ্য।’

ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘ত্রাণসামগ্রীগুলো গত তিন মাস আগে বরাদ্দ পেয়েছি। সেগুলোর কিছু বিতরণ করা হয়েছে। আমার বদলিজণিত কারণে ত্রাণসামগ্রীগুলো উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া হয়েছে।’

এব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইউএনও’র বাসা নয় ওটা উপজেলা প্রশাসনের অস্থায়ী গুদাম বলে আমাকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) জানিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কারও কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

—-ইউএনবি