June 16, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, June 3rd, 2024, 8:52 pm

নারী ক্রিকেটে দিশার সেঞ্চুরি, খাদিজার ৬ উইকেট

অনলাইন ডেস্ক :

হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে চার বলে ৩ উইকেট নিলেন খাদিজাতুল কুবরা। আগে-পরে নিলেন আরও ৩টি। তার দারুণ বোলিংয়ের পরও দিশা কাসাতের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পেল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। পরে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হেরে গেল খাদিজার খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি। মেয়েদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সোমবার অন্য দুই ম্যাচে তেমন রান হয়নি। ষষ্ঠ রাউন্ডে স্বর্ণা আক্তারের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রূপালী ব্যাংক ক্রীড়া পরিষদকে থামিয়ে জয়ে ফেরে আবাহনী লিমিটেড। দিনের অন্য ম্যাচে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিকে হারায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র।

দিশার সেঞ্চুরিতে মোহামেডানের ছয়ে ছয়

জেসিয়া আক্তারের পরিবর্তে মোহামেডানে যোগ দিয়ে প্রথম ম্যাচেই তিন অঙ্কের ছোঁয়া পেলেন ভারতের আরেক ব্যাটার দিশা কাসাত। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে খেলাঘরকে ১৮৯ রানে হারায় মোহামেডান। বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে ২৫৫ রানের লক্ষ্যে মাত্র ৬৫ রানে গুটিয়ে যায় খেলাঘর। এ নিয়ে টানা ছয় ম্যাচ জিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখল গত আসরের রানার্স-আপরা। পাঁচ নম্বরে নেমে ১৩ চার ও ২ ছক্কায় ৯৯ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন দিশা। পরে বল হাতে ৫ ওভারে ১১ রানে নেন ২ উইকেট।

স্বাভাবিকভাবেই তার হাতে ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। মোহামেডানের জয়ে বড় অবদান রাখেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিন অলরাউন্ডার রুমানা। ব্যাট হাতে ৫ চারে ৬৩ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। পরে বোলিংয়ে ৯ ওভারে ৫ মেইডেনসহ মাত্র ৬ রানে নেন ২ উইকেট। দিশার সঙ্গে রুমানার চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ১২৩ রান। এই জুটি ভাঙার পর বাকি ব্যাটারদের কেউই আর কোনো রান করতে পারেননি। সবাই আউট হন শূন্য রানে! এক প্রান্ত ধরে রেখে দলকে আড়াইশ পার করান দিশা। ৪০তম ওভারে পরপর দুই বলে আয়েশা রহমান ও সালমা খাতুনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান খাদিজা। তবে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। এক বল পর ফারজানা আক্তার ববিকে আউট করেন তিনি। সব মিলিয়ে ৩৩ রানে ৬ উইকেট নেন খাদিজা। চলতি লিগে এখন পর্যন্ত এটিই সেরা বোলিং। রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় খেলাঘর। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন অধিনায়ক সানজিদা ইসলাম। মোহামেডান অধিনায়ক সালমা ১৬ রানে নেন ৩ উইকেট।

চ্যাম্পিয়নদের থামিয়ে আবাহনীর জয়ে ফেরা

টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল রূপালী ব্যাংক ক্রীড়া পরিষদ। ষষ্ঠ রাউন্ডে তাদের বড় ধাক্কা দিল আবাহনী লিমিটেড। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে রূপালী ব্যাংককে ৮ উইকেটে হারায় আবাহনী। ১৩৩ রানের লক্ষ্য ৮৪ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে তারা। ছয় ম্যাচে আবাহনীর পঞ্চম জয় এটি। সমান ম্যাচে রূপালী ব্যাংকের জয়ও পাঁচটি। এই হারের পরও দুই নম্বর স্থান ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তিনে আবাহনী। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় রূপালী ব্যাংক।

চতুর্থ উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়ে তোলেন ফারজানা আক্তার লিসা ও লতা ম-ল। লিসা ৩৫ ও লতা করেন ৪২ রান। এরপর আর কেউই তেমন কিছু করতে পারেননি। ফলে দেড়শর আগেই গুটিয়ে যায় নিগার সুলতানার দল। আবাহনীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন জাহানারা আলম। এ ছাড়া নাহিদা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার নেন ২টি করে উইকেট। রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে ৭৫ রান যোগ করেন শারমিন সুলতানা ও দিলারা আক্তার। দুই ওভারে ফেরেন দুই ব্যাটার। দিলারা ৩৫ ও শারমিন করেন ৩৭ রান। এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি স্বর্ণা ও রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। ৫০ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা। ৪১ বলে ১৬ রান করেন রুবাইয়া। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন স্বর্ণা।

আনসার ও ভিডিপিকে হারাল কলাবাগান

বিকেএসপির ১ নম্বর মাঠে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিকে ৪ উইকেটে হারায় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ১৪১ রানের লক্ষ্য ৬৯ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে তারা। ছয় ম্যাচে কলাবাগানের দ্বিতীয় জয় এটি। সমান ম্যাচে আনসার ও ভিডিপির জয়ও ২টি। তবে একটি পরিত্যক্ত ম্যাচের পয়েন্টসহ চার নম্বরে তারা। কলাবাগানের অবস্থান ষষ্ঠ। আনসার ও ভিডিপির পাঁচ ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁলেও কেউ ত্রিশ পেরোতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সাত নম্বরে নামা সুলতানা। আয়েশা আক্তার জুনিয়র করেন ২৭ রান।

কলাবাগানের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন তাহিন তাহেরা, তমালিকা সুমনা ও রুপিয়া খাতুন। রান তাড়ায় শুরুতে কলাবাগানকে চেপে ধরেন সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন। মাত্র ১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে কলাবাগান। বিপর্যয় সামাল দিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১১৬ রানের জুটি গড়ে তোলেন লতিকা ইনামদার ও জান্নাতুল ফেরদৌস তিথি। ভারতীয় ব্যাটার লতিকা ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ বলে করেন ৬৭ রান। তিথির ব্যাট থেকে আসে ৯৬ বলে ৫০ রান। এর সঙ্গে বল হাতে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। আনসার ও ভিডিপির পক্ষে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নেন লেগ স্পিনার ফাহিমা।