July 16, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, June 15th, 2024, 9:13 pm

পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। একইসঙ্গে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। পরে রাতে পানি প্রবাহ আরও বাড়ে।

শনিবার বিকাল ৩টার দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময় তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপৎসীমার মাত্র ২১ সেন্টিমিটার নিচে।

এছাড়া পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের আরও কিছু নিম্নাঞ্চল আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, মহিষাশহর কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাড়ি ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে। এসব এলাকার খেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

সদর উপজেলার গোকুন্ডা এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভারতে পাহাড়ি ঢলের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট খুলে দেওয়ার কারণে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হুহু করে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আমাদের বাড়িঘরে পানি উঠেছে। এছাড়া আরও বেশি পরিমাণ পানি আমাদের বাংলাদেশের দিকে এলে এ এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন এলাকার এরশাদ হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে আমাদের ঘরে পৌঁছে গেছে। পানি আরেকটু বাড়লে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে যেতে হবে।

কালমাটি এলাকার মজিবর রহমান বলেন, তিস্তার নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পানি এসেছে। শুক্রবার সকালে পানি বেড়েছে। তিস্তায় আরেকটু পানি বাড়লে তারা বাড়িতে থাকতে পারবেন না।

এছাড়া নদীর পানি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ভারতের সিকিমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে সেখানে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তায় পানি প্রবেশ করে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।

তবে শনিবার দুপুর থেকে পানি প্রবাহ কম রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।

—–ইউএনবি