November 30, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, October 14th, 2022, 9:25 pm

পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণে আলাদা কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণে আলাদা কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই লক্ষ্যে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) আদলে গঠন করা হচ্ছে ‘পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি’। ইতোমধ্যে বিপিসি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির (পিটিসি-পিএলসি) অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটির জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আর জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধকের নিবন্ধন পেলেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। বিপিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিপিসি গ্যাসের মতো পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানি সঞ্চালনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটির ওই বিষয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এমন অবস্থায় সংস্থাটি পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণে আলাদা কোম্পানি গঠনে কাজ শুরু করেছে। কারণ বিপিসি পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু হলে তা রক্ষণাবেক্ষণে জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা করছে। জাহাজ থেকে খালাস এবং সরবরাহ কার্যক্রম করে এলেও বিপিসির স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। নেই জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণে নীতিমালাও। তাছাড়া বর্তমান নির্মাণাধীন পাইপলাইন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। পেট্রোলিয়াম পাইপলাইনগুলো অপারেশনে এলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন জনবলের প্রয়োজন হবে। ওসব বিবেচনায় আগামীতে জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও অপারেশনের জন্য আলাদা কোম্পানি গঠনের পদক্ষেপ নেয় বিপিসি। সেজন্য বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন ও পরিকল্পনা) আহ্বায়ক করে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সূত্র জানায়, আমদানি করা তরল জ্বালানি খালাসে ব্যয় ও সময় বাঁচানোর লক্ষ্যে পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন শীর্ষক প্রকল্পে ৭ হাজার ১২৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মাঝামাঝি ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাছাড়া উড়োজাহাজের জ্বালানি (জেট এ-১) সরবরাহের জন্য নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই পাইপলাইনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আর চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহনে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মিত হচ্ছে। ওই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৭১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। একইভাবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আমদানি করা তেল আনতে ১৩১ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করছে বিপিসি। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নামে ওই প্রকল্পের কাজ ৯০ শতাংশের বেশি এগিয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে সবগুলো পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন অপারেশনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি গঠনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিপিসি জনবল নিয়োগের পদক্ষেপ নিয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে ৫০ পদে ১১৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
এদিকে এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) খালিদ আহম্মেদ জানান, আগামী বছরগুলোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এসপিএমসহ ৪টি পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পথে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন, চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন, পিতলগঞ্জ-কুর্মিটোলা পাইপলাইনের কাজ চলছে। ওসব পাইপলাইন নির্মাণের পর রক্ষণাবেক্ষণের নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন কোম্পানি অনেকটা পেট্রবাংলার জিটিসিএলের মতোই। কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি (পিএলসি)। এখন জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নিবন্ধন পেলে বিপিসির আরেকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে।
অন্যদিকে বিষয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. লোকমান জানান, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম), ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন এবং ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসপিএম প্রকল্পের বিভিন্ন অপারেশনাল পয়েন্টে কমিশনিং শুরু হবে। ওই পাইপলাইনগুলোর অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিপিসি ইতোমধ্যে পিটিসি-পিএলসি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ১১৯ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পিটিসি-পিএলসি যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধকের নিবন্ধন পেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগসহ এর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হবে। এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে যে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, ওসব জনবল পিটিসি-পিএলসিতে আত্মীকরণ করা হবে।