January 20, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, January 2nd, 2022, 9:34 pm

প্রায় ৮ হাজার ট্রাক বেনাপোল বন্দরে দাঁড়িয়ে

ফাইল ছবি

জেলা প্রতিনিধি:

নানান প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত এক যুগেও ভারতের কালীতলা পার্কিংয়ে সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি মেলেনি বাংলাদেশি আমদানিকারকদের। বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় কালীতলা পাকিংয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১০ কিলোমিটার দূরত্বের কালীতলা পাকিং থেকে একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে আজও সময় লাগে এক মাসেরও অধিক। এতে আমদানি খরচ যেমন বাড়ছে তেমনি পণ্যের গুনগত মান নষ্ট হচ্ছে। নতুন বছরে বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি মিলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর হিসাবে পরিচিত কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে প্রথম থেকে এ পথে বাণিজ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহী বেশি। এ পথে আমদানি হওয়া পণ্যের একটি বড় অংশ হচ্ছে- শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, গার্মেন্টস, মেশিনারি দ্রব্য ও শিশু খাদ্য। তবে দিন দিন আমদানি চাহিদা বাড়লেও বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত অংশের বনগাঁ পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন কালীতলা ট্রাক পার্কিং। বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক পণ্য নিয়ে সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করতে পারলেও ভারতীয় ট্রাক চালকদের থাকতে হয় কালিতলা পার্কিংয়ে। সেখান থেকে সিরায়াল করে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে সময় লাগে কমপক্ষে এক মাস। পার্কিংয়ে সিরিয়ালের নামে সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘদিন ট্রাক আটকে থাকায় যেমন আমদানি খরচ বাড়ে তেমনি পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়। গত কয়েক বছর ধরে এ পথটি সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো সুরাহ মেলেনি। এ বিষয়ে ভারতীয় ট্রাকচালক অরিন্দম বলেছেন, কালীতলা পার্কিংয়ের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে কমপক্ষে এক মাস সময় লেগে যায়। এতে যেমন ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন, তেমনই বাড়ছে চালকদের দূর্ভোগ।বন্দরের সিন্ডিকেটের বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেছেন, ব্যবসায়ীরা কালীতলার সিন্ডিকেটমুক্ত হলে, আমদানি খরচ কমবে। সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত হতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সুফল মেলেনি। এ ক্ষেত্রে রাষ্টীয় হস্তক্ষেপ দরকার। প্রায় এক যুগ ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কালীতলা ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এ্যসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় কালীতলা পার্কিংয়ে প্রায় ৮ হাজার ট্রাক পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এত লোকসান পুষিয়ে ব্যবসায়ীরা লাভ করবেন কিভাবে? সেই সঙ্গে আমদানি কমায় দিন দিন সরকারের রাজস্বও কমে আসছে। পণ্যজটের বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক(ট্রাফিক) আবদুল জলিল বলেছেন, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৭০০ ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশের চাহিদা রয়েছে। তবে দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ এর বেশি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। কালীতলা পার্কিংয়ে পণ্যজট কমাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তারা চলমান সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।