June 29, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, April 29th, 2022, 9:51 pm

ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। আর তাই অনেক দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষদেরও সচ্ছল মানুষদের মতো কেনাকাটার ব্যস্ততা বেড়েছে।

কম বাজেটের ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, প্রসাধনী ও গয়নাসহ অন্যান্য পছন্দের জিনিসগুলো কম দামে কেনার জন্য ফুটপাত এবং অন্যান্য অস্থায়ী দোকানে ভিড় করছেন।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় ফুটপাত ও খোলা জায়গায় শতাধিক অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে মূলত নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের লক্ষ্য করে।

বিক্রেতাদের মতে, অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতাও তাদের স্টলে ভিড় করছেন। কারণ তাদের কাছে শপিং মলের মতো বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের পোশাক এবং অন্যান্য সব ধরনের পণ্য রয়েছে।

ফুটপাতের বিক্রেতারা আরও বলেছেন, যে তারা ভালো গ্রাহক টানছেন। কারণ করোনা মহামারির কারণে মানুষ দুই বছর বিরতির পর এবার পুরোদমে কেনাকাটা করার সুযোগ পেয়েছে।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী, ফকিরাপুল, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা ও মিরপুর এলাকার অস্থায়ী দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা যায়।

মেয়েদের পোশাক, শিশুদের পোশাক, প্রসাধনী, পুরুষদের পোশাক যেমন- জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ট্রাউজার, জুতো, বেল্ট, ক্যাপ, লুঙ্গি, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা।

সেখানকার বেশিরভাগ গ্রাহকেরা বলেছেন, তারা ফুটপাতের স্টলে কেনাকাটা করছে, কারণ তারা শপিংমলে গিয়ে দামি জিনিসপত্র কিনতে পারেন না।

মৌচাক এলাকার ফুটপাথের দোকানের সামনে গৃহকর্মী হালিমা খাতুন ইউএনবিকে বলেন, ‘আমি যে তিন বাসায় কাজ করি সেখান থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) আমি বোনাস পেয়েছি। তাই আমি এখানে আমার, আমার স্বামী এবং দুই মেয়ের জন্য কিছু কাপড় কিনতে এসেছি। আমি আমার স্বামীর জন্য ৩০০ টাকায় একটি শার্ট ও ৪০০ টাকায় আমার জন্য একটি পোশাক কিনেছি। আমি এখন আমার দুই মেয়ের জন্য পোশাক খুঁজছি।’

হালিমা জানান, তিনি ফুটপাতের দোকান থেকে কিছু প্রসাধনী ও জুতাও কিনবেন।

তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে প্রতিটা জিনিসের দাম একটু বেশি। তারপরও মার্কেটের তুলনায় এখানে জিনিসের দাম অনেক কম।’

বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার অস্থায়ী দোকান থেকে তার বাবার জন্য একটি পাঞ্জাবি, মায়ের জন্য কিছু কাপড় এবং ছোট ভাইয়ের জন্য একটি শার্ট ও জিন্স প্যান্ট কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কোম্পানি আমাকে বোনাস না দেয়ায় গত দুই বছরে ঈদ উপলক্ষে আমি আমার পরিবারের জন্য কিছু কিনতে পারিনি। এবার বোনাস পাওয়ায় লালমনিরহাটে বসবাসকারী আমার পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের উপহার কিনছি।’

অস্থায়ী দোকানগুলোতে সুলভ মূল্যে ভালো পণ্য পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখান থেকে যা কিনেছি তাতে আমি খুশি, কারণ দাম যুক্তিসঙ্গত। শপিং মল থেকে অতিরিক্ত দামে এই জিনিসগুলো কেনার মতো এত টাকা আমার কাছে নেই। আমি মনে করি ফুটপাতের দোকানগুলো আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আশীর্বাদ। ফুটপাতের দোকানগুলোকে কেউ যেন ছোট করে না দেখে।’

রিকশাচালক সানাউল্লাহকে নিউমার্কেট এলাকায় রাস্তার পাশের দোকানে তার দুই স্কুলপড়ুয়া ছেলের জন্য শার্ট ও প্যান্ট কিনতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি রবিবার রাতে বাড়ি যাব। আমার দুই ছেলে ঈদের নতুন পোশাক পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি খুশি যে আমি এখানে তাদের জন্য আমার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নতুন পোশাক পেয়েছি।’

ক্রেতাদের বিপুল সমাগম শহরের অস্থায়ী দোকানের মালিক ও বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

শহরের মতিঝিল এলাকার এক বিক্রেতা জানান, এ বছর তার অস্থায়ী দোকানে বিক্রি ও লাভ হওয়ায় তিনি খুশি।

তিনি বলেন, ‘আমি ভালো ব্যবসা করছি, কারণ এ বছর বিক্রির পরিমাণ এবং লাভ আগের বছরের তুলনায় বেশি। রমজানের শুরুতে বেচাকেনা ভালো হয়নি। তবে ১৫ রমজানের পর তা বাড়তে থাকে।’

নিউমার্কেট এলাকার আরেক বিক্রেতা সেলিম বলেন, বিক্রি ভালো হচ্ছে। ‘এমনকি আমাদের কথা বলার সময় নেই। মানুষ এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করছে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কেনাকাটা চলবে।

মিরপুর-১০ এলাকার ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট ও শার্ট বিক্রিকারী আবুল কালাম নামক এক বিক্রেতা জানান, এবার তার পণ্য বিক্রি করে বেশ লাভ হয়েছে।

তবে বেশিরভাগ বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, ফুটপাতে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের টোল দিতে হয়।

—ইউএনবি