November 30, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, September 10th, 2021, 7:38 pm

ফের আলোচনায় জোহানেস ভার্মির রহস্যাবৃত চিত্রকর্ম

অনলাইন ডেস্ক :

তিন শতাব্দী পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে জোহানেস ভার্মির চিত্রকর্ম। তার চিত্রকর্মগুলোর রহস্য উদঘাটনে পিছু ছাড়ছেন না ইতিহাসবিদরা। ডাচ স্বর্ণযুগের অন্যতম সেরা শিল্পী এই জোহানেস ভার্মি। খোলা জানালার মুখোমুখি এক তরুণী দাঁড়িয়ে কিছু একটা পড়ছেন- তার এমন চিত্রের বার্তা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করেন শতাব্দীর পর শতাব্দী। গত সপ্তাহে জার্মানির ড্রেসডেনে ওল্ড মাস্টার্স পিকচার গ্যালারিতে রাখা সেই চিত্রকর্মে এক প্রেমের রহস্যের কথা বলা হচ্ছে। ড্রেসডেনেই তার জীবনের বেশিরভাগ কাজ সংরক্ষিত। খ্যাতিমান এ ডাচ চিত্রশিল্পী সম্পর্কে কর্মসূচির শুরুতে জাদুঘরটি সেই ছবিটি প্রকাশ করেছে। যেটি আঁকা হয়েছিল ১৬৫৭ থেকে ১৬৫৯ সালের মধ্যে। দীর্ঘ পরিশ্রমে পুনরুদ্ধারচেষ্টায় ১৯৭৯ সালে আবিষ্কৃত এক এক্স-রে রিপোর্ট থেকে এখন বলা হচ্ছে কিউপিডের একটি স্মারক চিত্রকর্ম এটি, যা প্রথমবার প্রকাশ করা হলো। কিউপিড হলো রোমানদের প্রণয়ের দেবতা। যিনি প্রায়শই ডানাওয়ালা ছেলে হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন, মেয়েটির চিঠি পড়ার বার্তায় তার স্নেহ, আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, যা নতুন বার্তা দেয়। চার দশক আগেও যখন কিউপিডের খোঁজ পাওয়ার কথা জানা গেলো তখনও বিশ্বাস ছিল হয়তো তার নিজের প্রতিচ্ছবিই তুলিতে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি। ওল্ড মাস্টার্স পিকচার গ্যালারির পরিচালক ও ইতিহাসবিদ স্টিফান কোজা বলেন, ভার্মি বারবার তুলির আঁচড়ে প্রেম ও সুরের দেবতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, এটি স্বাভাবিকভাবে বোঝা যায় যে বেশ কয়েক বার কম্পোজিশন করে তিনি সেটাকে আরও বিমূর্ত করে তুলেছেন। তিনি একজন সত্যিই পারফেকশনিস্ট। যদিও পরে সংরক্ষণকারীরা ২০১৭ সালে পেইন্টিংটি পরিষ্কার করা শুরু করেন, তখন তারা অন্যরকম ইঙ্গিত পাওয়া প্রমাণ পেয়েছিলেন। কোজা বলেন, তরুণীর পেছনে খালি প্রাচীরের বার্নিশ ছিল একটি ভিন্ন রঙের। এবং পেইন্টের ধারাবাহিকতাও ভিন্ন ছিল। গবেষকরা যখন একটি আর্কিওমেট্রি ল্যাবরেটরিতে নমুনাগুলো খুঁটিয়ে দেখছিলেন, তখন তারা পেইন্টের স্তরের মধ্যে ময়লা লুকিয়ে থাকতে দেখেছিলেন, যা ইঙ্গিত করে যে অন্য কেউ ওভারপেইন্টটি অনেক পরে যোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পারি এটির কাজ শেষে হয়েছে। এটিকে কয়েক বছর ধরে আলোর নিচে ও বদ্ধ পরিবেশে রাখাও হয়েছিল। তাদের গবেষণা দল বিশ্বাস করে যে চিত্রকর্মটির উপর ফের তুলির আঁচড় পড়েছে, সেটি ১৮ শতকে হতে পারে। তবে কে এটি করেছে তা তারা নিশ্চিত নই, শুধু অনুমান। জোহানেসের রহস্যাবৃত এরকম আরও ১০টি ও অন্যান্যের আরও ৫০টি চিত্রকর্মের প্রদর্শন শুরু হচ্ছে ১০ সেপ্টেম্বর।