August 13, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, July 14th, 2022, 9:48 pm

বদলির আদেশ মানছে না অনেক সরকারি কর্মকর্তা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই জনস্বার্থে বদলির আদেশ মানছে না। সেজন্য এক মাসে ৮ কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও আইন বহির্ভূতভাবে ওই কর্মকর্তারা আগের কর্মস্থলেই রয়েছে। আর গত ৩ মাসে আরো শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা বদলি আদেশের পরও কর্মস্থলে যোগ দেয়নি। এমনকি ওই কর্মকর্তাদের কয়েকজন তদবির করে বদলি আদেশই বাতিলও করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শূন্য পদে বদলি করা হলেও বেশিরভাগ কর্মকর্তাই পছন্দের কর্মস্থলে থাকতেই আগ্রহী। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বদলি করা পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সরকারি সেবা ও কার্যক্রম। অথচ সার্ভিস রুল অনুযায়ী, বদলি আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রস্তুতির জন্য একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৬ দিন সময় পায়। আর একই শহরে বদলি হলে প্রস্তুতির সময় পায় না।
সূত্র জানায়, গত মে মাসে বদলির আদেশ না মানায় ২ জন করে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব ও ৪ জন উপৎসচিবকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তার মধ্যে দু’জন করে অতিরিক্ত সচিব ও উপ-সচিব বদলির ৩ মাস পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। আর স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও নোয়াখালীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে উল্টো তদবির করে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ বাতিল করেছেন বলে জানা যায়।
সূত্র আরো জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম-সচিবকে মার্চ মামে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে বদলি করা হয়। কিন্তু ওই কর্মকর্তা এখনো যোগ দেয়নি। আর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত এক যুগ্ম-সচিবকে মার্চেই মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে বদলি করা হয়। কিন্তু ওই কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগ দেয়নি। নোয়াখালীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালককে গত এপ্রিলে কক্সবাজারে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তিনিও ওই পদে যোগ দেয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগে সংযুক্ত এক উপ-সচিবকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি যোগ না দেয়ায় ৩০ মে তাকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে বদলি করা হয়। তারপরও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়নি ওই কর্মকর্তা। গত মে মাসে ৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলি করা হলেও ৫ জনই বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগ দেয়নি। কোনো কোনো কর্মকর্তাকে একাধিক জায়গায় বদলির পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়নি। তাছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে সংযুক্ত এক উপ-সচিবকে মার্চে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এবং ওই বিভাগের উপসচিবকে মার্চে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হলেও তারা কেউই যোগ দেয়নি। দীর্ঘ আড়াই মাস পর তাদের বদলি আদেশই বাতিল করা হয়েছে। নরসিংদীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে এপ্রিলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হলেও তিনি যোগ দেয়নি। পরে মে মাসে তার বদলি আদেশই বাতিল করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উপ-সচিবকে ৮ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হলেও ওই কর্মকর্তা যোগ দেয়নি। তার বদলি আদেশও মে মাসে বাতিল করা হয়।
এদিকে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, বদলি করা কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যোগ না দিলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। সেজন্য সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলারও সুযোগ রয়েছে। আর স্ট্যান্ড রিলিজের অর্থই হলো অব্যাহতি দেয়া। স্ট্যান্ড রিলিজের পর পুরোনো কর্মস্থলে কাজ করা আইনবহির্ভূত। বেতন-ভাতাও বিধিসম্মত হবে না। বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করাকে অনেকেই জুনিয়র কর্মকর্তাদের আস্পর্ধা হিসেবে দেখছেন। জুনিয়র কর্মকর্তারা যেভাবে আদেশ লঙ্ঘন করছে সেটা তারা তাদের চাকরিজীবনে কল্পনাও করেনি। মূলত প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই বদলি এবং স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে। আর সমন্বয় এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল না থাকায় এমনটা হচ্ছে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম গণমাধ্যমকে জানান, স্ট্যান্ড রিলিজের পর কর্মস্থলে যোগ না দিলে চাকরি অনিয়মিত হয়ে যাবে।