April 25, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, February 29th, 2024, 9:37 pm

বন্ধ হচ্ছে না ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একবার ব্যবহারযোগ্য তথা ওয়ান-টাইম বা সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশের সকল হোটেল-মোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং সকল উপকূলীয় অঞ্চলে ওয়ানটাইম প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একবছরের মধ্যে এই আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছিল। ওই আদেশ কার্যকর করে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদেশের চার বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার করা বন্ধ করা যায়নি। উল্টো উপকূলীয় জেলাগুলোসহ সারাদেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ব্যাপকহারে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে এসব প্লাস্টিকের ব্যবহার কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এছাড়া ব্যবহারকারীদের অসচেতনতায় উপযোগিতা ও সহজলভ্যতার কারণে এটি এখন নিত্যব্যবহার পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের উপকূলীয় এলাকার হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় একবার ব্যবহারের পর বর্জ্য হয়ে যায় এমন প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা আছে হাইকোর্টের। কিন্তু, এ নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায়, এটি দিনদিন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে যা করা দরকার, পরিবেশ অধিদপ্তরের তা করতে না পারার কোনো কারণ নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা সহজেই সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং যারা এ আদেশ মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক তৈরি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক তৈরি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টির আহ্বানও জানান পরিবেশমন্ত্রী।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সংসদে প্রথমে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক বন্ধ করার মাধ্যমে সারা দেশে একটি প্রসংশনীয় উদ্যোগ সৃষ্টি হবে, ভালো দৃষ্টান্ত হবে। যারা এ অবৈধ পণ্যগুলো তৈরি করবে, আমরা তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে সংযুক্ত করতে চাই। সে তালিকা বা রুলস আমরা তৈরি করছি। একই সঙ্গে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় করছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রতিদিন ৩০ হাজার টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। ঢাকায় প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টন। যার ১০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য। আমরা আগামী ২ বছর ৯০ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস করার পরিকল্পনা করেছি। ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের তালিকা করব। এটির উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। সেই সঙ্গে আমরা আমাদের আচরণও পরিবর্তন করতে চাই। আর ওয়ান টাইম প্লাস্টিক এতটাই সহজলভ্য, এটি সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমরা সব সময় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরে যেকোনো স্থানে প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র পোড়ানোর কারণে টক্সিন, ডায়াক্সিন, সালফার-ডাই-অক্সাইড, কাবর্ণ-ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস তৈরি হয়, যা মরণব্যাধি ক্যান্সারের কারণ। আমি শঙ্কিত, আমার এলাকার বিভিন্ন স্কুলের মাঠে প্লাস্টিক বর্জ্য রাখা হয়, পোড়ানো হয়, এটি রোধে মন্ত্রীর ভাবনা কী? মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের প্লাস্টিক পোড়ানোর অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। কিছুদিন আগে আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশের একটি জায়গায় প্লাস্টিক পোড়ানো হয়। সচিবালয় থেকে আমরা তা লক্ষ করেছিলাম।

অথচ এসব বর্জ্য পোড়ানোর বিরুদ্ধে অনেকগুলো আইন আছে। কিন্তু আমরা তা সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারছি না। এটি দেখা দরকার। এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, দেশে বর্তমানে ৫৫ মাইক্রন পুরুত্বের পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের আইন রয়েছে, তবে বাস্তবায়ন নেই। সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘পরিবেশ সুরক্ষা পুলিশ ফোর্স’ গঠন করে পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারে প্রণীত আইনের কঠোর বাস্তবায়ন দরকার। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলো যদি উদ্যোগী না হয় তাহলে তো পরিবেশের যা যা বিপর্যয় হওয়ার তা হবেই। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে মাছের শরীরে প্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। এই মাছ সাধারণ মানুষ খাচ্ছে। মাছের মাধ্যমে এই প্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে মানুষের মধ্যে চলে আসছে। ফলে মাছের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, মাছের প্রজনন স্বাস্থ্যের ও ক্ষতি হচ্ছে।

কারণ প্লাস্টিক যখন মাছের শরীরে প্রবেশ করে তখন স্বাভাবিকভাবে তার জীবনপ্রক্রিয়ায় এক ধরনের পরিবর্তন আসে। এর ফলে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া, মাছের বংশবৃদ্ধি, মাছের গ্রোথ সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু মাছ না, অন্যান্য যে জলজ প্রাণী আছে সবার ক্ষেত্রে একই বিপর্যয় হচ্ছে। ফলে এই কোস্টাল এর সকল প্রাণ প্রকৃতির মধ্যেই কিন্তু একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ প্রতিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এসব পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রাণিবৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে।