November 27, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, November 9th, 2021, 4:55 am

বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাখ্যান করে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের অধিক হারে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে বর্ধিত গণপরিবহন ভাড়া প্রত্যাখ্যান করে ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য ভাড়া নির্ধারণে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। সোমবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়েজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সহনীয় মাত্রায় ভাড়া বাড়ানো হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও এ ক্ষেত্রে তা প্রতিফলন হয়নি। বাস ও লঞ্চ মালিকদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সরকার তাদের চাহিদা অনুযায়ী একচেটিয়া ভাড়া বাড়িয়ে দিতে যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। বিআরটিএ ও বিআইডাব্লিউটিএ’র অনেকে মালিকদের পকেটে ঢুকে পড়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যাত্রীর স্বার্থ বিকিয়ে গলাকাটা ভাড়া নির্ধারণের ফলে দেশের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষকে আরও একদফা সংকটে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে যেভাবে বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে, তা জুলুম বলা চলে। এখানে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর একদফা ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর আবার ভাড়া বাড়ানো হলো। এতে যাত্রীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরের বর্ধিত বাসভাড়া কার্যকরের আগে এখানে কী পরিমাণ বাস গ্যাসে চলে এবং তেলে চলে তার হিসাব বের করে সুরাহা করা দরকার। মোজাম্মেল হক বলেন, ভাড়া নির্ধারণের ব্যয় বিশ্লেষণে পুরোনো বাসকে নতুন বাস হিসেবে দেখানো হয়েছে। চালক-হেলপারদের বেতন, বোনাস দেওয়ার মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেছে মালিকপক্ষ। ২০ বছর আগে কেনা বাসেও ব্যাংক লোন দেখানো হয়েছে। এভাবে নানা খাতে অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখিয়ে এক লাফে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৪২ পয়সার ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে। সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ করলে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা যেতো অর্থাৎ ১৮ পয়সার বেশি বাড়ানোর কথা নয়। তিনি বলেন, সাশ্রয়ী নৌপথের ভাড়াও সড়ক পথের দ্বিগুণ হয়েছে। দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রীধারণ সক্ষমতার লঞ্চের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা এবং ছোট নৌকা ও লঞ্চ, ট্রলারের (যাদের যাত্রীধারণ সক্ষমতা ১৫০-৫০০ জন) পরিচালন ব্যয় কম হওয়ায় এসব নৌযানের ভাড়া ১ টাকা ২০ পয়সা করার দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বর্ধিত ভাড়া বাতিল করে যাত্রী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য, বাস্তবসম্মত ভাড়া নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংগঠনের নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য শরিফুজ্জামান শরিফ, সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।