December 4, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, November 10th, 2021, 8:13 pm

বাংলাদেশের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান আর নেই

অনলাইন ডেস্ক :

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান তারিকুজ্জামান মুনির বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারা গেছেন। স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলে মেহরাবকে নিয়ে সিলেটে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাছাকাছি পৌঁছাতেই হঠাৎ বুক ব্যথা ওঠে তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন মুনির। সুস্থ হয়ে কর্মজীবনে ফিরেও গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এলো দুঃসংবাদ। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমের উইলস কাপ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ৩০৮ রান করেছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেটি ছিল প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। আবাহনী ক্লাব মাঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অনন্য রেকর্ডটি করেছিলেন। যে ইনিংস খেলার পথে ৩২টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন। ওই ম্যাচে আতাহার আলী খানও ১৫৫ রান করেছিলেন। দুজনের জুটি ছিল ৪১৭ রানের। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট মুনিরের ‘ফাস্টেস্ট’ সেঞ্চুরিও আছে। যেটি মাত্র ৫১ মিনিটে! ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ঈগলেটসের হয়ে ইলেভেন স্টারসের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন। তখন ৬০ ওভারের ম্যাচ হতো দুদিনে। ৫১ মিনিটে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে রেকর্ড গড়েছিলেন। পরবর্তীতে অগ্রণী ব্যাংকের এক ক্রিকেটার ৪৭ মিনিটে সেঞ্চুরি করে তার রেকর্ড ভেঙেছিলেন। ফিল্ডার হিসেবে তার খুব খ্যাতি ছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘ফিল্ডিং দিয়ে আমি হয়তো বাংলাদেশের জন্টি রোডস হতে পারতাম।’ তুখোড় ফিল্ডার হওয়ার কারণে সতীর্থরা তাকে নাম দিয়েছিলেন গিট্টু মনির ও গুল্লি। জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি দেশের শীর্ষ সবগুলো ক্লাব আবাহনী, মোহামেডান, বিমানে খেলেছেন। ১৯৮৬-র আইসিসি ট্রফিতে খেলতে পারেননি স্বজনপ্রীতির কারণে। তাকে বাদ দিয়ে দলে ঢোকানো হয়েছিল বর্তমান ব্যান্ডদল মাইলসের ভোকাল হামিন আহমেদকে। পড়াশোনাতেও মুনির ছিলেন দুর্দান্ত। ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপে মাস্টার্স করার পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ এমবিএ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লু পেয়েছেন। খেলার পাশাপাশি চাকরিও করতেন। এশিয়াটিক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোতে চাকরি করেছেন দ্ঘীদিন। খেলা ছাড়ার পর প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল, পেপসি, বার্জার পেইন্ট ও এলিট পেইন্টে চাকরি করেছেন। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্থানীয় আয়োজক কমিটির টুর্নামেন্ট ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সাবেক এ ক্রিকেটারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। বৃহস্পতিবার যোহরের পর মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার পল্লীমা সংসদের মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, পরে জুরাইন গোরস্থানে দাফনকাজ সম্পন্ন হবে।