October 6, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, September 19th, 2022, 2:18 pm

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা: ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা

ফাইল ছবি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। গত এক মাস ধরে তুমব্রু সীমান্তের কাছে ক্রমাগত গুলিবর্ষণ ও মর্টার শেল নিক্ষেপের পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৩০০ থেকে ৫০০ গজের মধ্যে প্রায় ৭০টি বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা তাদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘ঘুমধুম সীমান্তে বসবাসকারী ৩০০ পরিবারকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেয়া হবে।’

ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দিল মোহাম্মদ ভুট্টো জানান, শনিবার সকালে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত (১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা) গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায়নি।

ঘুমধুম বাসিন্দা কফিল উদ্দিন জানান, যে কোনো মুহূর্তে আবারও গুলি শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক এলাকাবাসী নিজ থেকেই সীমান্ত এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যেই প্রায় ৩৫টি বাংলাদেশি পরিবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী, রাতাপালং, সোনারপাড়া, পালংখালী, টেকনাফ উপজেলার হোইকং এলাকায় তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে চলে গেছে।

ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ঘুমধুম সীমান্তে চার হাজার ২০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এই পয়েন্টে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই তারা নানা আতঙ্কে আছে।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গাদের জিরো পয়েন্ট থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এখন খুবই আতঙ্কিত। কিন্তু তারা এখনও জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে। কি করতে হবে তারা তা জানে না।’

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ দৌজা ইউএনবিকে জানান, সীমান্তের জিরো পয়েন্টে জনগণ বা গোষ্ঠীর জন্য কমিশনারের কিছু করার সুযোগ নেই। অনেকেই স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন এবং সীমান্তে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জরুরি সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গারা জিরো পয়েন্টের বাইরে ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিলে তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করা সম্ভব।’

ইউএনও সালমা বলেন, এছাড়া সীমান্তে উত্তেজনা থাকায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র উখিয়া উপজেলার ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখান থেকে শনিবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন চৌকিতে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশ চতুর্থবারের মতো রবিবার দেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিয়াও মোকে তলব করেছে এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রতিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রতিবাদ জানানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শাখা) মো. নাজমুল হুদার কার্যালয়ে তলব করা হয়।

এর আগেও ঢাকা সীমান্তে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক মর্টার শেল নিক্ষেপ, সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বিচারে আকাশপথে গোলাবর্ষণ  এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন,সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টার শেল নিক্ষেপের বিষয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ জানানো হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদেরকে (মিয়ানমার) কয়েকবার সতর্ক করলেও তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

তিনি আরও বলেন, ‘তুমব্রু সীমান্তে শুক্রবারে মিয়ানমারের মর্টার শেল নিক্ষেপে হতাহতের ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত তার সীমান্তের মধ্যেই থাকা উচিত। কিন্তু তাদের বাহিনী বারবার সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশি নাগরিকদের আহত করছে।’

তিনি বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক রয়েছে।

শুক্রবার রাতে বান্দরবানের তুমব্রুতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেল বিস্ফোরণে মোহাম্মদ ইকবাল নামে ১৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা কিশোর নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়।

নিহত ও আহতরা সবাই জিরো পয়েন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ক্যাম্পটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের  নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকার সবচেয়ে কাছের ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত।

রাত ৮টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরপর চারটি মর্টার শেল পড়ে।

এর আগে, শুক্রবার দুপুরেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে অংঞাথোয়াই তঞ্চঙ্গ্যা (২২) নামে এক আদিবাসী যুবক গুরুতর আহত হয়।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত ১২টি মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছে।

—ইউএনবি