August 10, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, August 3rd, 2022, 1:32 pm

বাগেরহাট: লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বাড়ছে, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

বাগেরহাটে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। দিন-রাতে তিন থেকে চার বার লোডশেডিং করা হচ্ছে শহরে। আর গ্রাম অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসা-বাড়িতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতির মুখে রয়েছে ব্যবসায়ীরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিদিন চাহিদায় তুলনায় ২৫ মেগাওয়াট এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদার তুলনায় আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

জানা গেছে, বাগেরহাটের গ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবারহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আর বাগেরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারহের দায়িত্বে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। সব ধরণের ব্যবসা-বার্ণিজ্য এবং উৎপাদনমুখী কলকারখানায় লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মালটিমিডিয়া ক্লাশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুরছে না ফ্যান আর জ্বলছে না লাইট।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে বাগেরহাট ১৩২/৩৩ কেবি গ্রিড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবারহ করা হয়। এই উপকেন্দ্র থেকে বাগেরহাট জেলা এবং পিরোজপুরের সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবারহ করে। বাগেরহাট উপকেন্দ্রের প্রতিদিন পিক আওয়ারে চাহিদা ৯৮ মেগাওয়াট। সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন জানান, জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা তিন লাখ ৪০ হাজার। ৬১টি ফিডারের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবারহ করা হয়। প্রতিদিন তাদের চাহিদা রয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু সেখানে তারা পাচ্ছে ৫০ মেগাওয়াট। ২৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। দিন-রাতে চার বারে চার ঘণ্টা লোডশেডিং করে বিদ্যুতের ঘাটতি মিটানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বাগেরহাট ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জানান, বাগেরহাট পৌর এলাকায় তাদের গ্রাহক রয়েছে ১৮ হাজার ৫০০ জন। প্রতিদিন তাদের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু তারা পাচ্ছে পাঁচ মেগাওয়াট। আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। দিন-রাতে দুই থেকে তিন বার লোডশেডিং করে বিদ্যুতের ঘাটতি মিটানো হচ্ছে।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং বাসা-বাড়িতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মাঝে মধ্যে লোডশেডিং থাকায় মাল্টি মিডিয়ায় ক্লাশ হচ্ছে না। নানাভাবে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এন্ড কলেজ এবং মাদরাসা মিলে মোট ৫২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৭৭৪ জন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বাগেরহাটের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী শেখ বশিরুল ইসলাম জানান, বাগেরহাট শহরে দিনের বেলায় তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। আলো স্বল্পতার কারণে ক্রেতাদের মাল দেখানো যায় না। ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ডভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী এলাকা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের আওতা বর্হিভূত রাখার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

—-ইউএনবি