May 27, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, March 14th, 2022, 9:11 pm

বাজারের তুলনায় দাম কম থাকায় সরকারের আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাজারের তুলনায় দাম কম থাকায় আমন ধান সংগ্রহে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। আমন মৌসুমে ৩ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সেখানে মাত্র ৮৪ হাজার ৪৭০ টন অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৭২ শতাংশই অর্জিত হয়নি। তবে ৭ লাখ ২০ হাজার টন চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭ লাখ ১২ হাজার টন অর্জিত হয়েছে। ফলে চালের ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ লাখ ২০ হাজার টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার টন। অর্থাৎ ধান-চাল মিলিয়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আর ২২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি বছরই সরকার প্রান্তিক চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ধান ও চাল সংগ্রহ করে। আগে আমন মৌসুমে শুধুমাত্র চাল সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু বিগত ২০১৯ সাল থেকে আমন মৌসুমে চালের পাশাপাশি ধানও সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত দুই বছর ধানের সংগ্রহ ভালো হলেও চলতি বছর তা ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ৭২ শতাংশই অর্জিত হয়নি।
সূত্র জানায়, কৃষককে সঠিক দাম না দেয়ার কারণেই আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে আমন মৌসুম। এই মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে মিলারদের চালের দাম ৪ টাকা বাড়ানো হলেও কৃষকের ধানের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১ টাকা। আমন ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতি কেজি ২৭ টাকা আর চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪০ টাকা। কিন্তু ধানের দাম বাজারের তুলনায় কম থাকায় কৃষকরা বাজারে ধান বিক্রিতেই বেশি আগ্রহী হয়েছে। তাছাড়া ধান বিক্রির সময় খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনিয়মসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতাও কৃষকদের নিরুৎসাহিত করেছে। ওসব কারণেই শেষ হওয়া আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২২ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, এবার কৃষকরা সরকারের খাদ্যগুদামে ধান দিতে কৃষকরা আগ্রহী হয়নি। তবে রাইস মিল মালিকরা চুক্তিবদ্ধ থাকায় সরকারের চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হয়নি। সরকারের দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম কিছুটা বেশি ছিল। আবার সরকারের খাদ্যগুদামগুলোতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। যে কারণে কৃষকরা সরকারকে ধান দিতে উৎসাহী হয়নি। আর এবার ধানের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় কৃষকরা বাড়ি থেকে সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পেরেছে। সরকারিভাবে শতকরা ১৪ ভাগ আর্দ্রতার ঊর্ধ্বে কোনো ধান সংগ্রহ করা যাবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ আছে। অথচ বাজারে মৌসুমের শুরুর দিকে শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত আর্দ্রতাযুক্ত ধানও কেনাবেচা হয়েছে।